অর্ধেক ব্রীজে চলাচলের মাধ্যম বাঁশের সাকোঁ!


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৭/০৮/২০২২, ৪:৫৩ PM / ২০
অর্ধেক ব্রীজে চলাচলের মাধ্যম বাঁশের সাকোঁ!

বিশেষ প্রতিবেদন,সুফল চাকমা।

বান্দরবানে চলাচলের সুবিধার জন্য উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তিতে রুপ নিয়েছে সেতুটি। নিরুপায় হয়ে যাতায়াতের জন্য পাড়াবাসীদের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে সংযোগ সড়ক।

শনিবার(১৩ আগস্ট) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার রাজভিলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কেংড়াছড়ি পাড়া এলাকায় গিয়ে কেংড়াছড়ি খালের উপর নির্মিত সংযোগ সড়ক বিহীন এমন একটি সেতু দেখা যায়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কেংড়াছড়ি পাড়ায় ৬০ পরিবারের তিনশত এর বেশি জনগনের বসবাস। এদের মধ্যে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও রয়েছে প্রায় ৪০ জনের অধীক। বর্ষাকালে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটি। পাড়াবাসীদের চলাচলের সুবিধার্থে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০১৮- ১৯ অর্থ বছরে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হলেও আজ প্রায় তিন বছর পরেও কোন সংযোগ সড়ক না থাকায় পাড়াবাসীদের দূর্ভোগের কারন হয়ে উঠেছে এটি।

এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করে শুধু মাত্র সেতুর পশ্চিম পাশে কোন রুপ গার্ড ওয়াল না দিয়ে একদিকে মাটি ভরাট করে দায় সারিয়ে অফিস ম্যানেজ করে কাজের সম্পূর্ণ বিল উঠিয়ে নিয়েছে ঠিকাদার আরিফ। যা বৃষ্টির পানিতে অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙ্গে সে দিকও জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। এনিয়ে উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সরকারি প্রকৌশলী সোমনাথ চৌধুরীকে কয়েকবার জানানো হলেও তিনি কোন রুপ ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। সর্বশেষ গত কয়েক দিন আগে যোগাযোগ করা হলে তিনি (সোমনাথ চৌধুরী) বরাদ্দ না থাকায় এই প্রকল্পের কাজ আর করা যাবে না বলে জানান স্থানীয়দের।

পাড়ার ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনিষা তঞ্চঙ্গ্যা জানান,শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় সেতুর নিচ দিয়ে হেঁটে পারাপার হয়ে স্কুলে যেতেন।এখন বর্ষায় খালে পানি বেশী হওয়ায় হেটে পার হওয়া যায়না। বৃষ্টি বেশী হলে অনেক দিন স্কুলেও যাওয়া যায় না। তাই পাড়াবাসীরা মিলে সেতুতে উঠার জন্য বাঁশের বেড়া দিয়ে সংযোগ তৈরি করেছে গতকাল।

পাড়ার আরেক বাসিন্দা ধর্ম চরণ তঞ্চঙ্গ্যা জানান, তিন শতকের অধিক জনগনের বসবাস এই কেংড়া পাড়াতে। রয়েছে প্রায় ৪০জনের অধিক স্কুল পড়ুয়া কোমল মতি শিশু।বর্ষায় খালটি পারার হতে অনেক সমস্যা হয় সবার।উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত অসম্পূর্ণ সংযোগ সড়ক বিহীন এই সেতুটি দূর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।তাই পাড়াবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সেতুটি ব্যবহার করতে বাঁশ দিয়ে পাটাতন তৈরি করেছে খালটি পারাপারের জন্য।

রাজবিলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ক্য অংপ্রু মারমা জানান, কেংড়াছড়ি খালের উপর সংযোগ সড়ক বিহীন উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। এনিয়ে উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মান করে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রতন সেন এর সত্বাধিকারী রতন সেন জানান, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে তার লাইসেন্সে ৩৬ নাকি ৩৭ লাখ টাকা উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্ধে রাজবিলার কেংড়াছড়ি খালের উপর ঠিকাদার আরিফ সেতুটি নির্মাণ করেছিল।কাজ শেষ হওয়ার ফাইনাল বিলও উত্তোলন করা হয়েছে। জামানত উত্তোলনের পক্রিয়া চলছে।

এবিষয়ে জানতে বান্দরবান উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোমনাথ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।এছাড়া তিনি ওই প্রকল্পের দ্বায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও প্রকল্প ব্যয় ও কোন ঠিকাদার প্রতিষ্টান এ সেতু নির্মাণ করেছে তা জানাতে পারবেনা বলে জানান।

বান্দরবান পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াছির আরাফাত জানান, প্রথমে এটি কালবাট চেয়েছিল স্থানীয়রা পরে পর্যবেক্ষণ করে ব্রীজের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ব্রীজের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় ঠিকাদারকে ৪০ লাখ টাকার সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়।সংযোগ সড়কের জন্য চলতি বছরের মার্চ মাসে আরো ২০ লাখ টাকা এপ্রোজ করা হয় আজ (সোমবার ১৪ আগষ্ট) থেকে কাজ চলছে বলে জানান।

 

 

লামায় আওয়ামিলীগের প্রতিবাদ মিছিল-সভা অনুষ্ঠিত