কারিগরি পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগে ক্ষোভ


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ২০/০৮/২০২০, ৪:৪০ PM / ১৬
কারিগরি পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগে ক্ষোভ

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কারিগরি পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন কারিগরি পদের কর্মকর্তারা। তারা এই নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

 

নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করে এই পদে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছে গভর্নমেন্ট আইসিটি অফিসার্স ফোরাম এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ(আইইবি)।

গত ১৮ আগস্ট ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) কারিগরি পদে প্রশাসন ক্যাডারের সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার ৪ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে তাদের চাকরি জননিরাপত্তা বিভাগে ন্যস্ত করে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ওইদিন কুমিল্লা সদরের (দক্ষিণ) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিঞা মোহাম্মদ কেয়ামুদ্দিনকে এনটিএমসির নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের ইউএনও সমীর বিশ্বাসকে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার, বান্দরবানের রুমার ইউএনও মো. শামসুল আলমকে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার এবং নৌ-পরিবহন অধিদফতরের স্পেশাল অফিসার মেরিন সেফটি মো. রেজাউল করিমকে ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দেয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় নানা সমালোচনা। ক্ষুদ্ধ হন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মীরা। তবে পরের দিনই (১৯ আগস্ট) বিশ্বম্ভরপুরে ইউএনও সমীর বিশ্বাসের আদেশটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার টেকনিক্যাল পদে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তা নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে গভর্নমেন্ট আইসিটি অফিসার্স ফোরাম।

ফোরামের সভাপতি মো. তমিজ উদ্দীন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৮ আগস্টের প্রজ্ঞাপনটি গভর্নমেন্ট আইসিটি অফিসার্স ফোরামের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও ডাটাবেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের মতো কোর টেকনিক্যাল পদে সাধারণ ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট পদ তথা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশাল প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এছাড়া, এসব পদে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তারা পদায়িত হলে টেকসই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি), বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তি ও সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, টেকনিক্যাল বিষয়ে পড়াশুনা করে কোনো ব্যক্তি যদি সাধারণ ক্যাডারে যোগদান করেন, তবে পরবর্তীতে তাকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় টেকনিক্যাল পদে পদায়ন করা পেশাজীবী টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্য ও প্রবঞ্চনা বলেই প্রতীয়মান হয়।

বিবৃতিতে সভাপতি আরও বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতায়, কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও আইসিটি কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে কোর টেকনিক্যাল পদসমূহে সাধারণ ক্যাডারের অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগের ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদফতরে কর্মরত অভিজ্ঞ আইসিটি কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

এই নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পদায়নকৃত একজন কর্মকর্তার প্রেষণাদেশ বাতিল এবং এসব পদে আইসিটি বিভাগের মাধ্যমে অভিজ্ঞ আইসিটি কর্মকর্তাদের পদায়নের জোর দাবি জানায় ফোরাম।

অপরদিকে টেকনিক্যাল পদে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তা নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। বিবৃতিতে বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর মত উচ্চতর প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পালনের আগে এন্ট্রি পদে সহকারী প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে মোট সর্বনিম্ন দশ বছরের প্রকৌশলী পদের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। পুরোপুরি কোর টেকনিক্যাল পদ ও এইসব পদে নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তারা পদায়িত হলে টেকসই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বিসিএস মনে করছে, যা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশাল প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটবে। অবিলম্বে এই আদেশ রহিত করে কোর টেকনিক্যাল পদে অভিজ্ঞ কম্পিউটার প্রকৌশলীদের পদায়নের জন্য দাবি জানায় বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি।