খেলার ট্রপি ভাঙ্গলেন ইউএনও,আন্দোলনে উপজেলা চেয়ারম্যান।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ২৪/০৯/২০২২, ৪:৫৭ PM / ১৫
খেলার ট্রপি ভাঙ্গলেন ইউএনও,আন্দোলনে উপজেলা চেয়ারম্যান।

প্রশান্ত দে, আলীকদম প্রতিনিধি।

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় একটি ফুটবল টীমের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে খেলোয়াড় ও জনতার সামনে ট্রপি ভেঙ্গেছেন ইউএনও মেহরুবা ইসলাম। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইউএনও’র বিরুদ্ধে একশ্রেণির মানুষ ক্ষোভ জানাচ্ছেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ইউএনও’র বিরুদ্ধে ফেসবুক স্টাটাস দিয়ে তার অপসারণ দাবী ও আন্দোলনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম।

খেলায় উপস্থিত চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, ইউএনও বক্তব্যকালে কেউ কেউ ‘বেড সাউন্ড’ করায় ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মাংতাই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আবাসিক স্বাধীন যুব সমাজের উদ্যোগে জুনিয়র একাদশ বনাম রেপারপাড়া বাজার একাদশ ফুটবল টিমের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহরুবা ইসলাম।

সমাপনী খেলার প্রথমে ২ দলে ৩৫ মিনিট করে ৭০ মিনিট খেলার পর ড্র হয়ে যায়। এ কারণে রেফারী দুই দলকে টাইব্রেকার খেলার সিদ্ধান্ত দেয়। খেলায় ৪টা টাইব্রেকারে আবাসিক জুনিয়ার দলের ৩টা গোল হয় এবং টাইব্রেকারে রেপার পাড়া একাদশের একটা গোল হয়। খেলার নিয়ম অনুযায়ী আবাসিক জুনিয়র একাদশ চ্যাম্পিয়ন এবং রেপার পাড়া একাদশ রানার্স আপ হয়।

এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহরুবা ইসলাম বলেন, খেলায় হার জিত থাকবে। এতে কারো মন খারাপের কারণ নেই। তিনি উপস্থিত জনসাধারণের কাছে খেলার ফলাফলে সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে কয়েকজন খেলার ‘ফলাফল মানি না’ বলাতে ইউএনও ক্ষিপ্ত হন।

এরপর তিনি খেলার চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স আপ কাপ (ট্রফি) ভেঙে ফেলেন! এ সংক্রান্ত ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও ইউএনও-কে ট্রপি উপরে তুলে টেবিলে আছাড় মারতে দেখা যায়।

শুক্রবার বিকেল থেকে এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। উঠে সমালোচনার ঝড়। এ ঘটনায় আলীকদম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তার ফেসবুক আইডিতে ইউএনওকে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং আন্দোলন করার হুমকী দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুবা ইসলাম জানান, খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণের সময় হঠাৎ একজন এসে বললেন যে, তিন গোল চার গোল তারা মানে না। তখন আমি বললাম, খেলা আবার হবে কিনা। তখন এটা নিয়ে পেছন থেকে খুব আওয়াজ শুরু হলো। কয়েকজন বললো তারা ট্রফি নেবে না, এ ট্রফি যতদিন থাকবে একটা আক্রোশ থাকবে। তারা বলল, ট্রফি ভেঙে ফেলা হোক। পরে আমি বললাম, তাহলে ঠিক আছে আপনারা মেডেলগুলো নিয়ে যান।

ইউএনও মেহেরুবা ইসলাম আরো বলেন, তারা সেগুলোও না নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওরাই বলছে ট্রফিটা ভেঙে ফেলা হোক। তাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। ওখানে বহিরাগত কিছু ছেলে এসেছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যানরাও তাদেরকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে শনিবাবার সকাল দশটায় চৈক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি এ খেলায় উপস্থিত ছিলাম। ইউএনও’র বক্তব্যকালে কেউ কেউ ‘বেড সাউন্ড’ দেয়।

বলে যে, আবারো খেলতে হবে। এতে সাময়িক উত্তেজনা হয়। তিনি বলেন, টমটম চালক আব্দুর রশিদের ছেলে এবং বাজার পাড়ার একাদশের পক্ষের করিম নামে একজন এই হট্টগোল করে।

এরপর ইউএনও ক্ষিপ্ত হন।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে খেলার আয়োজক সংগঠন ‘আবাসিক স্বাধীন যুব সমাজ’ এর সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ট্রপি ভাঙ্গার বিষয়ে আমাদের কোন আন্দোলন বা কর্মসূচী নেই। যারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তাদের সাথে আমাদের একাত্মতা নেই। এ বিষয়ে আমরা কোথাও অভিযোগও দেয়নি।

এদিকে, ২৪শে সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল চারটায় আলীকদম সেনানীবাস মোডে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল কালাম। তিনি বলেন, ইউএনও কর্তৃক খেলার ট্রপি ভাঙ্গা ঠিক হয়নি। ইউএনও মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে আলীকদম অচল হওয়ার আশংকা আছে।

 

 

 

 

আলীকদমে খেলার ট্রফি ভাঙ্গলেন ইউএনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়।