ছেলে হত্যার দায়ে পিতাসহ পরিবারের তিনজনের যাবজ্জীবন।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ২৯/০৮/২০২২, ৩:১০ PM / ১০
ছেলে হত্যার দায়ে পিতাসহ পরিবারের তিনজনের যাবজ্জীবন।

বান্দরবানের বসত ভিটার জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে আপন ছেলে শাহ্আলমকে হত্যার দায়ে পিতা মোজাফ্ফর আহাম্মদসহ পরিবারের অপর তিনজন আসামি আরিফ উল্লাহ, আছমা সিদ্দিকা ও শাহনাজ বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৯আগস্ট) দুপুর ১২.৩০টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মো. ফজলে এলাহী ভূইয়া এ রায় দেন।রায় ঘোষণার সময় আসামি আরিফ উল্লাহ ও শাহনাজ বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং আসামি মোজাফ্ফর আহাম্মদ ও আছমা ছিদ্দিকা পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আরিফ উল্লাহ (৩৫), আছমা ছিদ্দিকা (২৮), মোজাফ্ফর আহাম্মদ (৬৫) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মন্ডল্যা ঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং আসামি শাহনাজ বেগম কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডস্থ তুলাতলী এলাকার মো. হোসেন প্রকাশ কালুর স্ত্রী। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, আসামি মোজাফ্ফর আহাম্মদ ভিকটিমের পিতা, আরিফ উল্লাহ্ ভিকটিমের ভাই, আছমা ছিদ্দিকা ভাইয়ের স্ত্রী এবং শাহনাজ বেগম ভিকটিমের বোন।

২০১৬ সালে ০৯ ডিসেম্বর সকাল অনুমান ৭টার দিকে বসত ভিটা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে আসামিগণ দা, হাতুড়ি, লোহার রড ও গাছের লাঠি নিয়ে ভিকটিম শাহ্ধসঢ়; আলমের বসতঘরে প্রবেশ করে ভিকটিম শাহ্ আলমেরমাথায় দা দিয়ে কোপ মারে এবং রড ও গাছের লাঠি দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাতকরে। ঘটনার সময় বাদী আরফাতুন্নেছা প্রকাশ আরেফা ও ভিকটিমের মেয়ে জান্নাতুল নাঈমা-ও আসামিগণ কর্তৃক আঘাতপ্রাপ্ত হন।

পরে ভিকটিম শাহ্ আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে ও পরে কক্সবাজার সদও হাসপাতালে নেওয়া হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল হতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণের পর ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ ভোর ৬ টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম শাহ্ আলম মৃত্যুবরণ করেন।এ ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর নিহত শাহ্ আলমের স্ত্রী আরফাতুন্নেছা প্রকাশ আরেফা বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় এজাহার দায়ের করলে পুলিশ ২০১৭ সালের ০৮ নভেম্বর এ ঘটনায় আরিফ উল্লাহ, আছমা সিদ্দিকা,মোজাফ্ফর আহাম্মদ ও শাহনাজ বেগমকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর এ রায় দেন। মামলার বাদী আরফাতুন্নেছা প্রকাশ আরেফা রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অপরদিকে, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকবাল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামি আরিফ উল্লাহ, আছমা সিদ্দিকা,

মোজাফ্ফর আহাম্মদ ও শাহনাজ বেগম ভিকটিমকে বসত ভিটা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে হত্যা করে। এ ঘটনায় দায়রেকৃত মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণে বিষয়টি প্রমাণিত হয়। আদালতের বিচারক আসামিগণকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন।

 

জন প্রতি পাঁচ কেজি চাল না দিয়ে অবৈধভাবে বস্তায় বস্তায় চাউল পাঁচার।