ড্রাগন ফল চাষে অনেকের অনুপ্রেরণা জামছড়ির মংমং সিং


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৩/০৭/২০২৩, ১২:১১ AM / ৫১
ড্রাগন ফল চাষে অনেকের অনুপ্রেরণা জামছড়ির মংমং সিং

নিজস্ব সংবাদদাতা।

 

বান্দরবানে জামছড়িতে পাহাড়ি আবহাওয়ায় লাল, হলুদ, সাদাসহ সাত জাতের ড্রাগন ফলের পাশাপাশি আম, কমলা, পেয়ারা চাষ করে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মংমং সিং মার্মা। ইতোমধ্যে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলার পাশাপাশি তিনি অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন স্থানীয়দের কাছে।

মাস্টার্স পাস করার পরে মংমং সিং একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন । চাকরির পাশাপাশি শখের বশে ২০২০ সালে হাজার খানিক ড্রাগন গাছ লাগিয়েছিলেন। পরে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এভাবে তিন বছরে পাঁচ একর ঢালু পাহাড়ে ৬ হাজার ড্রাগন ফলের বাগান করেছেন।

ড্রাগনচাষি মংমং সিং মার্মার বাগানে গিয়ে দেখা যায়, আট জনের একটি দল নারী-পুরুষ উভয়ই ড্রাগন ফল ছিঁড়তে ব্যস্ত সয়ম পার করছেন। কেউ কাঁধে ড্রাগন ফল ভর্তি থুরুং নিয়ে যাচ্ছেন আবার কেউ ফলগুলো বাজারজাত করছেন। তাঁর বাগানে পাঁচ জন নারী ও তিন জন পুরুষ নিয়মিত কাজ করেন। এলাকায় ড্রাগন ফলের বাগান হওয়ায় অনেক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাগানের কর্মচারীরা।

এ সময় কথা হয় ড্রাগনচাষী মংমং সিং মার্মার সাথে তিনি বলেন, বছরে এ সময়ে মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে দুইবার ফল তুলতে পারেন। প্রতি চালানে প্রায় দুই থেকে তিন টন ড্রাগন ফল তুলেন বাগান থেকে তিনি। এ বছর ফলন ভালো হওয়ায় পনেরো টন ড্রাগন ফল তুলতে পারবেন বলে আশা করেন।

ড্রাগন ফলের বাগান ২০২০ সালে ভিয়েতনামের লাল ড্রাগন ফলের চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন মংমংচিং। পরে সাদা, হলুদসহ সাত প্রকারের ড্রাগন চারা সংগ্রহ করে জামছুড়িতে ৫ একর পাহাড়ি জমিতে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬শ’টি কংক্রিট পিলারে হাজার খানিক ড্রাগন গাছের বাগান করেন তিনি। পরে আস্তে আস্তে পিলারে সংখ্যা বাড়াতে থাকেন, বর্তমানে ১৩শ পঞ্চাশটি পিলারে ৬ হাজার ড্রাগন গাছ রয়েছে। রোপণের বছর দেড়েক পরেই ফল আসতে শুরু করে। শুরুর দিকে ভালো ফলন না হলেও এ বছর ভালো ফলন হওয়ায় ১৫ টন ড্রাগন ফল বিক্রয় করতে পারবেন বলে আশা করেন। গত বছর ৯টনে তেরো লাখ টাকার ফল বিক্রয় করেছিলেন। এ বছর বিশ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রয় করতে পারবেন এই আশা করছেন এবং তার ড্রাগন বাগান থেকে আগ্রহী চাষিদের ড্রাগনের কাটিং বিক্রয় করে বাড়তি উপার্জনের পথও রয়েছে।

তাঁর দাবি, ড্রাগন বাগানে বেশি লাভ না হলেও ক্ষতি নেই। বিশেষ করে কৃষি উপকরণ সার ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষীদের লাভ কম হচ্ছে। তবে ড্রাগন বাগানে ভালো মত পরিচর্যা ও সময় দিলে কোটি টাকাও আয় করা সম্ভব।

ড্রাগন ফল পাইকারী ক্রেতা উত্তম দাশ বলেন, বান্দরবানে তিন চার বছর ধরে প্রচুর পরিমাণে ড্রাগন ফল উৎপাদন হচ্ছে। রুমা, থানছি, রোয়াংছড়িসহ বান্দরবান সদরের আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ড্রাগন ফলের বাগান রয়েছে। তিনি ওইসব বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে দেশে বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করে থাকেন। তবে ওইসব ফল সংগ্রহ করতে জেলা পরিষদকে দু’বার টোল ফি দিতে হয়।এছাড়া রাস্তায় বিভিন্ন গ্রুপকেও চাঁদা দিতে হয়। ফলে চাষীরা তাদের ন্যায্য মূল্যে দাম পায় না।

বান্দরবানের কৃষি উপপরিচালক এম,এম, শাহ্ নেয়াজ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কলা, আম, কাঁঠাল, আনারস, কাজুবাদাম, কফির সাথে সাথে বর্তমানে ড্রাগন ফলের চাষ বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১-২২ সালে বান্দরবান জেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছিল। এ বছর ৫০ হেক্টর ড্রাগন ফলের বাগান হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৫-৬ টন ফলন হয়ে থাকে। এই ফলের চাহিদা সারাদেশে রয়েছে সঠিকভাবে বাজারজাতকরণ করতে পারলে চাষীরা বেশি লাভবান হবে বলেও মনে করেন তিনি।