তুমব্রু সীমান্তের পরিস্থিতি থমথমে মর্টারশেল নিষ্কৃিয়,নিরাপদে আশ্রয় নেয়া ২ গ্রামের মানুষ ফিরেছে বাড়িতে।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৭/০৯/২০২২, ১০:০৩ PM /
তুমব্রু সীমান্তের পরিস্থিতি থমথমে মর্টারশেল নিষ্কৃিয়,নিরাপদে আশ্রয় নেয়া ২ গ্রামের মানুষ ফিরেছে বাড়িতে।

আবদুর রশিদ,(নাইক্ষ্যংছড়ি),তুমব্রু সিমান্ত থেকে সর্বশেষ –

পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমরু সীমান্তে মর্টারশেলের আঘাতে রোহিঙ্গা যুবক নিহত ও কয়েকজন আহতের পর তুমব্রু’র পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

তবে সীমান্তের ওপারে এখনো গুলির শব্দ শুনা যাচ্ছে। তবে ঘটনার পর মর্টারশেলটি নিষ্কৃিয় করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে। আর রাতে নিরাপদে যাওয়া ২ গ্রামের মানুষ ফিরে এসেছে স্ব-স্ব ঘরে। বিশেষ করে সীমান্ত থেকে কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীরা বেজায় খুশি নিরাপদে পরীক্ষা দিতে পারার সুযোগ পাওয়ার জন্যে । তাদেরকে তুমব্রু ঘটনার পর শুক্রবার রাত ১১ টায় বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াসিন পারভেজ তিরমিজি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন পরিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এই কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কুতুপালং কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হয়।ঘুমধুমের তুমরু বাজারে কথা হয় স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আবদুল জাব্বার ও ব্যবসায়ী বদিউল আলমের সাথে। তারা বলেন,শুক্রবার রাতে মিয়ানমারের মর্টারশেলের আঘাতে নিহতের পরিবার শোকে কাতর।

তারা এ প্রতিবেদককে আরো বলেন,মৃত ইকবাল উদ্দিন
ঘটনার সময় শূণ্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গা ক্যম্পের ১০ নম্বর সেটে অবস্থান করছিলো। পাশে একটি অস্থায়ী দোকান ঘরে। সব মিলে ৮/১০ জন রোহিঙ্গা গোলাগুলির বিষয়ে ভাবছিলো আর কথা বলছিলো। ঠিক সে সময় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পরপর ২ টি মর্টারশেল এসে পড়ে কোনার পাড়ায়। তারা আরো বলেন,এর ১টি নাফ নদীর আগা তথা শূণ্যরেখায় থাকা কোনার পাড়াস্থ তুমরু খালের পাড়ে পাথরে পড়ে বিষ্ফোরিত হয়।
যা সেই ১০ নম্বর রোহিঙ্গা সেটে ছিটকে পড়লে ঘটনাস্থলে নিহত হন ইকবাল। আহত হয় ৭ জন। নিহত ইকবাল কে শনিবার সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত এমএসএফ হাসপাতাল হয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ময়না তদন্ত করে
বিকেলে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এ সংবাদ লেখা কাল অবধি।
তারা আরো বলেন, শনিবার রাতে গোলার আঘাতে হতাহতের পর ঘুমধুমের কোনার পাড়া ও মাঝের পাড়ার ২ গ্রামের ৬০ পরিবার রাত ১২ টার দিকে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছিলো। আর হেডম্যান পাড়ার নারীদের সরিয়ে রাখা হয় বিপদমুক্তির জন্যে। এভাবে ৩ গ্রামের অধিকাংশই শনিবার সকালে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ায় তারা নিজনিজ বাড়িতে ঘরে এসেছে।তুমরু সীমান্ত থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থী শিফতি,রাশেল,জাহাঙ্গির, আজিজুল হক,নায়িম,রোকেয়া বেগম,তাসলিমা আক্তার,উক্যয়ন তঞ্চংগা ও ম্যওয়ে তঞ্চংগা বলেন,সীমান্তে উত্তপ্ত পরিস্থিতে কেন্দ্র পরিবর্তন করে সুষ্টভাবে পরীক্ষা দিতে পারায় তারা খু্বই খুশিশিক্ষার্থীরা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা ফেরদৌস ও ছাত্রনেতা সাদ্দামের গাড়ির ব্যবস্থা করার জন্যে সাধুবাদ জানান।ইউএনও সালমা ফেরদৌস বলেন,সীমান্তের উদ্ভুত পরিস্থিতে সীমান্তের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ঘুমধুম থেকে ৫ কিলোমিটার নিরাপদে কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার দিল মোহাম্মদ বলেন,অবিষ্ফোরিত গোলাটি সেনা বাহিনীর একটি বিশেষজ্ঞ দল বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছে। আর এলাতার থমথমে পরিবেশ। কিন্ত কোনার পাড়া ও মধ্যম পাড়া থেকে নিরাপদে আশ্রয় নেয়া লোকজন সকালে ফিরে এসেছে।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ বলেন,মিয়ানমার বাহিনী কি চায় তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে বিজিবি সবধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছে। তাদেের টহল বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লবের সাবেক ক্রীড়া ও পাঠাগার সম্পাদক মোঃ আবদুর রশিদসহ একাধিক সাংবাদিক জানান,তাদেরকে ঘুমধুম ও তুমরুতে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া হচ্ছে। অথচ এখানে স্থানীয় ও বাইরের হাজারো মানুষের সমাগম রয়েছে।তারা আরো জানান, ঘুমধুম সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তুমুরু বাজার, তুমরু গ্রাম,বাইশফাঁড়ি,কোনার পাড়া,মধ্যমপাড়া,হেড়ম্যানপাড়া, ইউনিয়ন পরিষদ ও উত্তরপাড়াসহ ঘুমধুমে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

যাতে অনেকে বিড়ম্বনার শিকারে পড়েন। এ প্রসংঙ্গে বিজিবি সদস্যরা বলেন তারা উপরের নির্দেশে এসব করছেন। এদিকে মর্টার শেলে নিহত
মৃত ইকবাল উদ্দিন কে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ।

 

 

কাপ্তাইয়ে দশ’ টি সরকারি দপ্তরের প্রধান দশ জন নারী কর্মকর্তা।