পাহাড়ে মারমাদের আসছে সাংগ্রাইং ও জলকেলি উৎসব।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১১/০৪/২০২৩, ৯:৩৪ PM / ১৯৭
পাহাড়ে মারমাদের আসছে সাংগ্রাইং ও জলকেলি উৎসব।

চাইথোয়াইমং মারমা,রাঙামাটি বুর‍্যো।

পার্বত্য জেলাতে মারমাদের প্রধান উৎসব বাংলা নবর্বষে ও সাংগ্রাই জলকেলি আর মাত্র অল্প ক”দিন বাকি। এরপর পাহাড়ের মেতে উঠবে মারমা নিজ মাতৃভাষা রচিত গান “সাংগ্রাইমা ঞিঞি ঞাঞা” সুরে তরুন তরুনীরা গান পরিবেশন করবে। পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হতে যাচ্ছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাধারণত মারমারা সাংগ্রাই ও জলকেলি উৎসব পালিত হয় ।

ঐদিন পুরানো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই উৎসবের আনন্দ ছোট বড় সকলে আমেজ। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান বৌদ্ব সম্প্রদায় মানুষের সামাজিক সাংস্কৃতিক উৎসব সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে উৎসবের নানান রঙে সাজতে শুরু করেছে পুরো তিন পার্বত্য জেলায়। এতে পাহাড়ের সাংগ্রাই উৎসবের ঘিরে আনন্দিত মূখরিত পরিবেশে মারমা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠিরা।

এদিকে নতুন বছর বর্ষবরণকে ঘিরে আদিবাসী / ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পল্লীগুলোতে এরি মধ্যে শুরু করেছে নানান প্রস্তুতি । নানান ধরনের পিঠা তৈরি, ঘর কে ফুল দিয়ে  সাজানো থেকে শুরু করে নতুন জামা-কাপড় কিনতে স্থানীয় বাজার ও মার্কেট গুলোতে পড়েছে কেনাকাটার ধুম।

ছোট থেকে সকল বয়ষ্কের মানুষ নিজেকে রাঙিয়ে দিতে ব্যস্ততা সময় পার করছেন । শুধু বাজার নয় বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়ও চলছে পুরোদমে নানান প্রস্তুতি। তাছাড়া সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে তিনদিনব্যাপী পানি খেলা, পিঠা তৈরি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন করা হয় এই দিনে।

মৈত্রী পানি বর্ষণের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস-সব মিলিয়ে পুরো জেলার সবক’টি সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে হবে এই নতুন বছরকে বরণ করে নিতে  ।

১৪এপ্রিল পার্বত্য জেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই উৎসবকে স্বাগত জানাবে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২ দিনব্যাপী উৎসব চলবে। উৎসবের মধ্যে রয়েছে সমবেত প্রার্থনা, জলকেলি (পানি খেলা), পিঠা তৈরি, ঘিলা খেলা, বৌদ্ধ মূর্তি স্নান, হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন, বয়স্ক পূজা ও নিজস্ব ঐতিহ্যবাসী নৃত্য-গানসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও পার্বত্য এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে প্রতি বা‌রের ন্যায় এবারও সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন পরিষদ আয়োজন করেছে এ মনোরম অনুষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাংগ্রাই আগমনের ফলে পাহাড়ি গ্রাম গুলোতে শুরু হয়েছে যেসব কাজে কয়েকজন যুবকরা এটি মধ্যে শুরু করে দিয়েছে মৈত্রী পানি বর্ষণের বাঁধভাঙা, গ্রামে গ্রামে ঘর পরিষ্কার – পরিছন্নতা ও ঘর সাজানোতে ব্যস্ততা সময় পাড় করছেন তরুণীরা।

আশেপাশে ঘরের আঙ্গিনায় সাজাতে শুরু করেছে বিভিন্ন রকমারি ফুল। আগাম প্রস্তুতির নিতে এরই মধ্যে ব্যস্ততার ধুম পড়েছে পাহাড়ি গ্রামে তরুন-তরুনীদের। বিভিন্ন বার্মিজ মার্কেটসহ পাহাড়িদের নিজ পছন্দের কেনাকাটা করতে ভীড় জমিয়েছেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠিররা। বিভিন্ন ফুলের ও রঙ্গের আদলে তৈরি থামি সেট, লুঙ্গি ও শার্ট সাংগ্রাই গেঞ্জি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন শিশু থেকে বয়ষ্ক জোষ্টরা।

এই দিনে নতুন বছরকে বরণ করতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মাবলম্বীরা নানান কর্মসূচি হাতে নিয়ে থাকেন। এই দিনে পরিশুদ্ধ জল মাধ্যমে পুরানো দিনকে গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। উৎসব উদযাপিত দুইদিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের মারমা এই সাংগ্রাইং (নববর্ষ) উৎসবের প্রতিবছর পালন করে থাকে ।

উল্লেখ্য, ১৬ এপ্রিল মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থা (মাসস)উদ্যােগের প্রতিবছরে ন্যায় এবছর পালন করবে বলে মাসস সহ-সভাপতি জেলা পরিষদ সদস্য নিউচিং মারমা গণমাধ্যম কে জানান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিঃ দীপংকর তালুকদার এমপি সভাপতি জাতীয় সংসদ খাদ্য মন্ত্রনালয়। বিশেষ অতিথি মোঃ আমিনুর রহমান এনডিসি বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম। বিশেষ অতিথি ঃ মোঃ ইমতাজ উদ্দিন পিএসসি এনডিসি ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড রিজিয়ন কমান্ডার রাঙ্গামাটি, মোঃ মিজানুর রহমান জেলা প্রশাসক রাঙ্গামাটি মীর আবু তৌহিদ বিপিএম পুলিশ সুপার রাঙ্গামাটি। সভাপতিত্বে করবেন অংসুইপ্রু চৌধুরী চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ রাঙ্গামাটি।

এবারে রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলা ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বাঃহাঃ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণের মারমাদের সাংগ্রাই বা জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। ৩নং বাঃহাঃ ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা জানান এবারে আমার ইউনিয়নের মাসস উদ্যোগের জলকেলি উৎসব বা বাংলা নর্ববষ সহ সুন্দর পরিবেশে উদযাপন শেষ করতে প্রশাসন সহ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও সকল সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। এখন প্রায় ৯০% শতাংশ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের সাজ সজ্জা কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অতিথি শিল্পী খাগড়াছড়ি শিল্পী গোষ্ঠীর অংশ গ্রহণ করবেন সকলে সুপরিচিত জুলিপ্রু মারমা সহ অন্যান্য শিল্পী বৃন্দ।

 

 

আরো পড়ুন –

আগামী ১৫ এপ্রিল  চিৎমরম  সাংগ্রাঁই জলবর্ষণ উৎসব, ঘটবে লক্ষাধিক লোকের  সমাগম