পাহাড়ীদরে পাশাপাশি বাঙ্গালীদের পছন্দরে সবজি বাঁশ কোড়ল।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ২৭/০৭/২০২২, ৩:২৩ PM / ১৫
পাহাড়ীদরে পাশাপাশি বাঙ্গালীদের পছন্দরে সবজি বাঁশ কোড়ল।

পার্বত্য বান্দরবানে এই বর্ষা মৌসুমে বাজার গুলোতে পাহাড়ি সবজি বিক্রেতাদের বিভিন্ন সবজির মধ্যে প্রধান সবজি হিসেবে বিক্রি করছেন বাঁশ কোড়ল।মূলত বাঁশ গাছের গোড়ার কচি অংশকে বাঁশ কোড়ল বলে পরিচিত সবার কাছে,যা মূলত পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীদের সবজির তালিকায় পছন্দের একটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বাশঁ কোড়ল পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী নানা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে একেক নামে পরিচিত, মারমাদের কাছে মহ্ই আবার চাকমাদের কাছে বাচ্ছুরি, আর ত্রিপুরাদের কাছে মেওয়া নামে ড়াকা হয় ।

পার্বত্য অঞ্চলে বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সবজিটি বাজারে বেশি পরিমানে দেখা যায়। বান্দরবান বাজারের পাহাড়ি সবজি বিক্রেতাদের সাতে কথা বল্লে যানা যায় সব বাঁশের কোড়ল খাওয়া যায় না। যেগুলো খাওয়া যায়, তার মধ্যে মুলি বাঁশ, ডলু বাঁশ, মিতিংগ্যা বাঁশ, ফারুয়া বাঁশ, বাজ্জে বাঁশ, ও কালিছুরি জাতের বাঁশের কুড়ুল খেতে বেশ সুস্বাদু।পার্বত্য বান্দরবান জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের অন্যতম জনপ্রিয় সুস্বাদু খাবার ‘বাঁশ কোড়ল’। পাহাড়ের গহিনে প্রায় সব স্থানেই মেলে এ সবজি।

বর্তমানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের পাশাপাশি অনেক বাঙ্গালীদেরও জনপ্রিয় একটি খাবারে পরিণত হয়েছে।বর্ষা মৌসুমে জেলার পাহাড়ি এলাকার গহিনে প্রকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া বাঁশ ও ব্যাক্তিগত বাগানে বাঁশ জন্ম নেয়।এসব বাঁশ পরিণত হওয়ার আগেই স্থানীয় পাহাড়িরা বাঁশ গাছের গোড়ার কচি অংশ সংগ্রহ করে তা প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে আশে।

পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের পাশাপাশি এখন বসবাসকারি বাঙালিরাও বাঁশ কোড়ল খেতে শুরু করেছে।জানা গেছে, বছরের মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এ সবজির ভরা মৌসুম থাকে। মুলি বাঁশ, ডলু বাঁশ, মিতিঙ্গ্যা বাঁশ, ফারুয়া বাঁশ, বাজ্জে বাঁশ, কালিছুরি বাঁশসহ বেশ কয়েক প্রজাতির বাঁশ কোড়ল পাওয়া যায় স্থানীয় বাজার গুলোতে।বর্ষার শুরুতে বৃষ্টির পানিতে মাটি নরম হলে এটি বাড়তে শুরু করে।

মাটি হতে ৪-৫ ইঞ্চি গজিয়ে উঠলে এটি খাওয়ার উপযোগী হয়।জাতের ভিন্নতার সাথে সাথে বাঁশ কোড়লের স্বাদেও ভিন্নতা আছে বলে জানাযায়।বান্দরবান মগ বাজার এলাকায় সবজি বিক্রেতা ম ম জানায় মুলি বাঁশ কোড়ল সবচেয়ে সুস্বাদু হওয়ায় সবার কাছে এটি জনপ্রিয়তা বেশি তবে দামের ক্ষেত্রে সব গুলো একই রাখা হয়।

বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন সকাল বিকেল জেলা ও উপজেলা শহরের মগ বাজারে বাঁশ কোড়ল নিয়ে যান স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিরা।প্রতি কেজি বাঁশ কোড়ল বিক্রি করা হয় ৮০-১০০ টাকার মধ্যে। তবে চাহিদা অনুযায়ী এর দাম কম-বেশি হতে পারে।এছাড়াও পাহাড়ি স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলোতেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে এ সবজি।

পার্বত্যাঞ্চলে ঘুরতে আশা অনেক পর্যটকদেরও এখন অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ি এই সবজির প্রতি। পাহাড়ি সবজি বিক্রতা মং ম জানায় এ সবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অনেক পাহাড়ি যা তাদের পরিবারের আর্থিক অসুবিধা লাঘবে সাহায্য করে।সরজমিনে দেখা মিলবে জেলা সদরের বালাঘাটা বাজার,ও মগ বাজার এলাকায় এই বর্ষা মৌসুমে রাস্তার পাশেই বসে পাহাড়ি নারী ও পুরুষ সবজি বিক্রেতাদের সামনে সারি সারি ভাবে সাজানো আছে পাহাড়ি বাঁশ কোড়ল।

 

 

আরো পড়ুন –বান্দরবানের এক ইউপি সদস্যকে অপহরণ