পিআইবি’র উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে “তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক” কর্মশালা অনুষ্ঠিত


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১০/০৭/২০২১, ১১:৪৫ PM / ১২
পিআইবি’র উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে “তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক” কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধিঃ
সাংবাদিকরা যদি তথ্য অধিকার আইনটা সম্মুখ ধারণা নিয়ে তা আইনে প্রয়োগ করি তা হলে আমাদের কাজের গতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)’র মহাপরিচালক, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও কবি জাফর ওয়াজেদ।

তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের বিষয়ে আগে আগ্রহ ছিলো না। আগে জোর করে মানুষকে তথ্য সরবরাহ করতে হতো। তবে এখন কিন্তু তথ্যের জন্যে আগ্রহ বেড়ে গেছে। কারণ তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ দেশে হঠাৎ করে ঘটেছে। আর এখন মানুষ তথ্য পেতে চায়।

তিনি আরো বলেন, তথ্য অধিকার আইনটা কিন্তু ২০০৯ সালে সংসদে পাশ হয়েছে। আর এটার জন্য সবস্ত কৃতিত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কারণ তিনি যেহেতু সাংবাদিকদের সাথে তার সর্ম্পকটা গভীর, পারিবারিক ভাবেও গভীর।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেও সংবাপত্রের পৃস্টপোষকতায় ছিলেন তা না, সাংবাদিকতাও করেছেন। প্রয়োজনে পত্রিকায় লিখেছেন বিভিন্ন সংবাদ এবং তিনি সংবাদপত্র ছাপার কাজ নিজেও করছেন। আর সংবাদপত্র নিয়ে আগ্রহ ছিলো তীব্র। তিনি নিজেই রাজনীতি করেছেন, রাজনীতি আন্দোলন করছেন, সংগ্রাম করেছেন, গণমানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলেছেন, শায়িত্ব শাসনের কথা বলেছেন সেই কারণে তিনি তথ্য অধিকার বিষয়গুলো সামনে এসেছেন। প্রতিটি আন্দোলনে তথ্য পাওয়ার অধিকার বিষয়টি সামনে এনেছেন এবং তিনি কথা বলার অধিকারটি প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। তিনি রাজনীতি আন্দোলনে অবাধ তথ্য প্রবাহের অধিকার দিয়েছিলেন।

শনিবার (১০জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)’র উদ্যাগে আয়োজিত রাঙ্গামাটিতে কমর্রত সাংবাদিকদের নিয়ে জুমের এ্যাপের মাধ্যমে “তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক” প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙ্গামাটিতে কমর্রত সাংবাদিকদের নিয়ে জুমের এ্যাপের মাধ্যমে “তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক” অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রফেসর ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে। এতে পিআইবি’র জিলহাজ উদ্দিন নিপুন যুক্ত হন।

এছাড়া রাঙ্গামাটি থেকে জুম এ্যাপের মাধ্যমে, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, সহ সভাপতি অলি আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, বিশিষ্ট প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দেসহ রাঙ্গামাটি কর্মরত ২৮জন সংবাদকর্মী জুম এ্যাপে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন।

প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)’র চেয়ারম্যান জাফর ওয়াজেদ আরো বলেন, বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যে যুগ এসেছে তা আগে তা ভাবাই যায়না এবং করোনা এসে আমাদের ঘর মুখি করে দিয়েছে। তা না হলে এই প্রশিক্ষণ রাঙ্গামাটি গিয়ে করার কথা ছিলো। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি আছে বলেই আজকে রাঙ্গামাটি কর্মরত সাংবাদিকদের পাচ্ছি তা কম প্রাপ্তি না, অনেক প্রাপ্তি এবং এই যে আমার সাথে আপনাদের যোগাযোগ হচ্ছে এইটাও তথ্য প্রযুক্তির বিকাশের যুগে হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে তথ্য দেয়াটা দায়িত্বতা আমাদের। আমরাইতো তথ্য সংগ্রহ করে মানুষের কাছে পরিবেশন করছি। তথ্য অধিকার আইনটি আমাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করা দরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ব্যবস্থাটি করে দিয়েছেন। তবে অনুসন্ধ্যানী সাংবাদিকটা আমরা করি না। সেই কারণে আমরা পিছিয়ে আছি। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকটা করার সময় আমরা কিন্তু এই তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে অনেক তথ্য পেতে পারি। তাই তথ্য অধিকার আইনের ব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরী করতে হবে। কারণ তথ্য অধিকার আইন শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্য। সাধারণ নাগরিকরাও তা প্রয়োগ করতে পারে।