প্রচারণা বন্ধ করে  নির্বাচন থেকে সরে আশার ইঙ্গিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীরের


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ৩০/০৪/২০২৪, ৩:৫২ PM / ৩৮
প্রচারণা বন্ধ করে  নির্বাচন থেকে সরে আশার ইঙ্গিত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীরের

জয়বাংলা নিউজ ডেস্ক। 

 

বান্দরবানে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন থেকে সকল প্রচার প্রচারনা কার্যক্রম স্থগিত করে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত আনারশ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা একক প্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীর।

আগামী ৮ই মে অনুষ্ঠিতব্য ৬ষ্ট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এ বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং বর্তমান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর নিজের সকল প্রচার প্রচারনা বন্ধ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে দেয়া ১২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে আশার এই ইঙ্গিত দেন যা মূহুর্তের মধ্যে সকল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের অবস্থান তুলে ধরে একেএম জাহাঙ্গীর বলেন পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারনে এবং উপরের চাপে তিনি সদর উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের ৪ টি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় যেতে পারছেন না,এবং প্রচারণায় আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহারের ব্যপারেও নিষেধ করা হয়েছে এছাড়াও তিনি জানান প্রচার প্রচারনায় গেলে কর্মী সমর্থকদের প্রান নাশের হুমকিতেও আছেন তিনি।

তিনি বলেন আমার প্রতিপক্ষ বান্দরবান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন।তিনি পার্বত্য বান্দরবানের সাংসদ এর নাম ব্যবহার করে জেলা ও উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচীত জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাদের কে নিয়ে আমাকে ঠেকাও এই পদ্ধতিতে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছেন।এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাই আমাকে জানিয়েছেন।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন যদি এটি বান্দরবানের সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিং এর সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে আমি উপজেলা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন নির্বাচন অবাদ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হওয়ার স্বার্থে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিক বিহীন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন বৈঠক করে আমি ছাড়া আওয়ামীলীগ হতে একক প্রার্থী হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে আর কোন প্রার্থী নেই এটা স্পষ্ট করার পরেও নেতা কর্মীদের নিষেধ করে দেয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনী মাঠে আমার সাথে কাজ না করে।

তিনি বলেন ৭ টি উপজেলার মধ্যে ৩ টির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে,৩ টি উপজেলায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করছে,যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে শুধু আমার উপজেলার নির্বাচনী প্রচারণায় নিষেধ করা হচ্ছে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু বলতেও নিষেধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে যদি আমার জায়গায় অন্য কাউকে একক প্রার্থী করত তাহলে আমি তার পক্ষেই কাজ করতাম।

তিনি বলেন তারা যদি আওয়ামীলীগ হয়ে বিএনপির সমর্থকদের সমর্থন দিতে পারে তারা আওয়ামীলীগ কর্মী নয়।

তবে এ বিষয়ে খোলাশা করে কিছু না বল্লেও তার কথায় এবারের উপজেলা পরিষধ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করা প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস এর পক্ষে আওয়ামীলীগ কর্মী সমর্থকদের পরোক্ষভাবে কাজ করার জন্য বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের হাই কমান্ড থেকে প্রচার প্রচারনায় বিভিন্ন সহযোগীতার বিষয়টি উঠে আশে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক লক্ষী পদ দাশ বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া বক্তব্য উনার ব্যক্তিগত অভিমত।তিনি বলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ হতে এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রতিক নৌকা না দেয়া সহ স্বতন্ত্র প্রতিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের জানানো হয়েছে।

তবে বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ হতে একেএম জাহাঙ্গীর কে অসহযোগিতা করার বিষয়টি সম্পুর্ন উনার ব্যক্তিগত অভিমত।

জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন একেএম জাহাঙ্গীর বিগত পাঁচ বছর নির্বাচিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন,তিনি যদি বিগত পাঁচ বছর জনগনের জন্য কাজ করে থাকেন,দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে পাশে থাকেন তাহলে নির্বাচনে সকলেই তাকে সমর্থন করবে।

তিনি বলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সকলকেই যার যার জনপ্রিয়তা দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়ি হয়ে আসতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর এর ভিডিও বার্তার বিষয়ে পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক লক্ষী পদ দাশ।

এদিকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী একেএম জাহাঙ্গীর এর ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।এসময় নেতা কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে একেএম জাহাঙ্গীর এর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করতেও দেখা যায়।