বান্দরবানে ইক্ষু চাষে লাভবান হচ্ছেন ইক্ষু চাষীরা।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ০৯/০৮/২০২২, ২:১৩ PM / ১৭
বান্দরবানে ইক্ষু চাষে লাভবান হচ্ছেন ইক্ষু চাষীরা।

জয় বাংলা কৃষি ডেক্সঃ-

বাংলায় ইক্ষু বা আখ, ইংরেজীতে সুগারক্যান,মার্মারা বলে krayaing (ক্রাইং)চাকমারা বলে kucshel( কুচ্ছেল,) ত্রিপুরা বলে Kru u (ক্রুউ)।

চিবিয়ে খাওয়া যায়, গুড় তৈরী হয়, চিনি তৈরী হয়। ইক্ষু বিভিন্ন জাতের আছে। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বান্দরবান অফিস সুত্রে জানা যায় চিবিয়ে খাওয়া ইক্ষু জাত আবার ৪প্রকার যেমন  বিএসআরআই আখ -৪২ (রংবিলাস),বিএসআরআই ইক্ষু-৪৭, চায়না ও সেনেগাল।

তবে ইক্ষু চাষীরা  রংবিলাস জাতের ইক্ষুটিই বেশী উৎপাদন করছেন বলে জানা যায়।  গুড় তৈরী ইক্ষু জাত ভিএমসি ৮৬-৫৫০, বিএসআরআই ইক্ষু-৪১ (অৃমত) সহ বান্দরবান জেলায় সদর,রোয়াংছড়ি,লামা,আলিকদম চারটি উপজেলায় ৬টি জাতের ইক্ষু চাষ হচ্ছে।

বান্দরবানে চিনি তৈরীর ইক্ষু চাষ হয়না বলে জানা যায় কারন এখানে কোন চিনি তৈরীর কারখানা নেই। ইক্ষু বীজ লাগানোর পর থেকে ১০-১১মাসের মধ্য ইক্ষু খাওয়া ও বিক্রির উপযোগী হয়।

পাইকারী বিক্রি করলে প্রতিটি ইক্ষু ১৫-২০টাকা,আর খুচরা বিক্রি করলে প্রতিটি ইক্ষু৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়।
এছাড়াও ইক্ষু লাগানোর জায়গায় সাথী ফসল হিসেবে চাষের মাঝখানের সারিতে বাঁধাকপি,আলু, শাক,মূলাসহ বিভিন্ন সাথীফসল করে লাভবান হচ্ছেন অনেক কৃষক।

বান্দরবান সদর উপজেলা জামছড়ি ইউনিয়নের চাষিরা জানান  প্রথম  ২০০৯ সালে এলাকায়  রংবিলাস জাতের ইক্ষু চাষ শুরু করেছিলেন তারা। দেখাদেখি  ধীরে ধীরে  এই এলাকায় ইক্ষু চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইক্ষু বড়-লম্বা হলে খুঁটি দিয়ে বেঁধে  রাখতে হয় যাহাতে ইক্ষু হেলে না পড়ে,একটি খুঁটির দাম ৬০-৭০ টাকা, প্রতি ৪০শতক জায়গায় প্রায় ১১-১২ হাজার ইক্ষু উৎপাদন হয়, সেই হিসেবে প্রতি ৪০শতক জায়গায় শুধু ২৫-৩০ হাজার টাকার খুঁটি লাগে, লাভ যেমন হয় খরচ ও পরিচর্চাও আছে ইক্ষু চাষে।

গরীব ইক্ষু চাষীরা যদি ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ পেতো তাহলে চাষীরা আরো লাভবান হতো এবং অন্যান্য চাষীরা ইক্ষু চাষের দিকে ঝুঁকতো বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষকেরা । সেজন্য ইক্ষু চাষীদেরকে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন।

তথ্য মতে ইক্ষু”র সাথে সাথীফসল কিভাবে উৎপাদন করা যায়, গুড় কিভাবে উৎপাদন করা যায়,কৃষক মাঠ দিবসের প্রশিক্ষণসহ গত এক বছরে ১ হাজার ২০ জন ইক্ষু চাষীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
বাম্দরবানে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ২৭৮ হেক্টর, ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ২৯৫ হেক্টর, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ৩৫৫ হেক্টর জমিতে ইক্ষু চাষ করা হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে বান্দরবান ৩৫৫ হেক্টর, রাঙ্গামাটি-২৯৫ হেক্টর,খাগড়াছরিতে ৪৪০ হেক্টর জায়গায় ইক্ষু চাষ করা হচ্ছে। ইক্ষু উৎপাদন খরচ প্রতি হেক্টরে ১লাখ ৭৩হাজার,লাভ হয় ৬লাখ ৭৫ হাজার, সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি হেক্টরে নীট আয় হয় প্রায়  ৫লাখ  টাকা।

বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বান্দরবান উপকেন্দ্রের কন্সালটেন্ট কৃষিবিদ  জানান, বান্দরবান সহ তিন পার্বত্যজেলায় দিনদিন ইক্ষুর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে, আগামীতে ব্যাংক থেকে গরীব চাষীদেরকে কৃষিঋণ পেতে সহায়তা করা হবে।

বান্দরবানসহ তিন পার্বত্য জেলার মাটি ও আবহাওয়া ইক্ষু চাষের জন্য খুবই উপযোগী এবং বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বান্দরবান এর পক্ষ থেকে ইক্ষু চাষীদেরকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করার কারনে ইক্ষু চাষীরা যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন।

বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পাহাড়ি ও বাঙ্গালী কৃষকেরা।