বান্দরবানে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ব‌্যবহারের অভিযোগ


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ২০/০২/২০২১, ৮:১৪ AM / ১৫
বান্দরবানে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া ব‌্যবহারের অভিযোগ

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বটতলীপাড়া-গালেঙ্গ্যা রাস্তার নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজইডি) বাস্তবায়নে প্রায় ১২কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে ইটের খোয়া দেড় ইঞ্চির কথা বলা হলেও এতে ব্যবহার হয়েছে-তিন থেকে চার ইঞ্চি বড় ইটের টুকরা। এসব বড় আকারের ইটের খোয়া মিলিয়ে রাস্তার কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মেকাদম হয়ে গেছে।

বড় খোয়া দিয়ে মেকদমের কারণে কার্পেটিংয়ের সময় বড় খোয়া-বিটুমিন মেশানোর সময় ফাঁক সৃষ্টি হতে পারে। এতে কার্পেটিং দ্রুত নষ্ট হবে এবং উঠে যাবে। ফলে রাস্তার কাজ টেকসই হবে না বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

বটতলী পাড়ার স্থানীয় মাখ্যাই চিং জানান, রাস্তায় একটি ইটকে মাত্র তিন ভাগ ভেঙ্গে ছোটগুলোর সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব‌্যায়ে গত বছরের আগস্ট মাসে রুমার-বটতলীপাড়া রাস্তা থেকে গালেঙ্গ্যা অফিস পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার রতন কান্তি দাশ।

রুমার ময়ুর পাড়ার পাশে কোলাদাইং ঝিরি আগা থেকে রাস্তার নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে বটতলী পাড়ার পার্শ্ববতী খক্ষ্যংঝিরি কাছাকাছি পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার মেকাদমের কাজ চলছে। রাস্তায় খণ্ড খণ্ড অংশে মেকাদমে আকারে বড় খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে নির্মাণ কাজে নিয়োজিত গাড়ি চলাচলেই এরমধ্যে নিম্নমানের খোয়াগুলো গুঁড়ো হয়ে বালু-মাটিতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া নির্মাণ কাজে সাইটের এ্যাজিং মেকাদম থেকে পরিস্কার করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি।

নির্মাণ শ্রমিক দেলোয়ার (৩৮) বলেন, ‘বেশ কয়েক ট্র্যাক নরম ইট আনা হয়েছে। তবে সেগুলো শুরুতেই দেওয়া হয়ে গেছে। এখনতো এখানে একটু-ওখানে একটু খারাপ খোয়া দেওয়া হচ্ছে।’

এ কথা বলার সময় পাশে থাকা আরেক শ্রমিক দেলোয়ারকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘খারাপ খোয়া সব তলে গেছে। ওপরে সব ভালো খোয়া।’

‘বড় খোয়াগুলো রাস্তায় দিলে মজবুত হবে কি না’ এমন প্রশ্নে শ্রমিকরা বলেন, ‘সেটা ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার জানেন।’

ময়ুর পাড়ার প্রধান কারবারী ক্যশেঅং মারমা জানান, রাস্তার কাজটি তাদের পাড়ার পাশ থেকেই শুরু। তাই কী পরিমাণ বড় ইটের টুকরো রাস্তায় দেওয়া হয়েছে তা সব জানা আছে। তবে নিম্নমানের ইট ব‌্যাবহারের কথা বললেই ক্ষেপে যায় ঠিকাদারের লোকেরা।

তিনি বলেন, ‘রাস্তার জন‌্য আমার জমি থেকে পাহাড় কেটে বালু নিয়েছে ঠিকাদার। তবে এখনও টাকা শোধ করেনি।’

ঠিকাদার রতন কান্তি দাশ বলেন, ‘খোয়া আকারে বড়। সেগুলো আবার ভাঙ্গিয়ে দিতে বলেছি। না দিলে খোয়া যারা ভেঙেছে- তাদের কোনো মজুরি দেওয়া হবে না। তবে কিছু ইট নরম আছে, এগুলো ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের কথা অনুযায়ী রাস্তার এক স্থানে না দিয়ে বিভিন্ন অংশে দিয়েছি।’

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘সরেজমিনে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আকারে বড় ও নিম্নমানের ইটের খোয়াগুলো তলে দিয়ে রোলিং করা মেকাদমের বিষয়ে এখন আর করার কিছুই নেই।’

সূত্র: অনলাইন