মৈত্রী পানিবর্ষনে জমে উঠেছে সাংগ্রাইং উৎসব


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৫/০৪/২০২৪, ৭:৩৫ PM / ৩২
মৈত্রী পানিবর্ষনে জমে উঠেছে সাংগ্রাইং উৎসব

জয়বাংলা নিউজ ডেস্ক।

 

বান্দরবা‌নে গত ১৩ এপ্রিল সকালে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী সাংগ্রাইং উৎসবের সূচনা করা হয়। “প্রতিটি ফোটায় হোক শান্তির দুত,পৃথিবী হোক শান্ত মৈত্রীময় জলধারায়”এই প্রতিপাদ্যে শুরু হয় এবারের মহাঃসাংগ্রাইং ২০২৪। পুরাতন বছর‌কে বিদায় এবং নতুন বছর‌কে বরণ কর‌তে সাংগ্রাই‌ উৎসবের শুরু হয়।

মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাইং এর সবচেয়ে আনন্দঘন ও উল্লেখযোগ্য অংশ জলকেলি বা মৈত্রী পানিবর্ষন উৎসব (পানি ছিটানো)।

তিন‌ দিনব্যাপী আয়োজিত সাংগ্রাইং উৎসবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ মৈত্রী পানিবর্ষন বা জলকেলি। এই উৎসবের মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে স্বাগত জানায় মারমারা।

১৫ এপ্রিল সোমবার বিকেলে মহাঃ সাংগ্রাইং উদযাপন কমিটির ব্যবস্থাপনায় জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে জলকেলি উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ মারমা তরুণ-তরুণীরা নৌকার খালি অংশে পানি রেখে দুই পাশে দাড়িয়ে একে-অপরকে পানি ছিটিয়ে দেয়া। পাশাপাশি চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কয়েক হাজার মারমা নারী-পুরুষ এই উৎসবে যোগ দেন এছাড়াও পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনসাধারণও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন এছাড়াও তাদের এই উৎসব দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পর্যটকরাও ভিড় জমান।ঘুরতে আশা পর্যটকেরা জানালেন আমরা সচরাচর এমনটা দেখি না,টেলিভিশন এ দেখেছি, গতকাল চলে যাওয়ার কথা থাকলেও এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য থেকে গেছি।এই অনুষ্ঠান সুন্দর ভাবে উপভোগ করতে পারায় কর্তৃপক্ষে ধন্যবাদ জানান এই পর্যটক।আরেকজন পর্যটক জানালেন আমাদের অনেক বন্ধুবান্ধব আছে তাই প্রতিবছর এই উৎসব দেখতে আশি।

প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষবরণ উপলক্ষে ত্রিপুরা সম্প্রদায় ‘বৈসুক’ মারমারা ‘সাংগ্রাইং’ এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা ‘বিজু’ নামে এই উৎসব পালন করে। তিন ভাষার আদ্যোক্ষর নিয়ে এই উৎসবকে বলা হয় ‘বৈসাবি’। বাংলা বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উৎসবকে পাহাড়ের সম্প্রদায়েরা ভিন্ন নামে পালন করে আসছে বহুকাল ধরে।

এসময় উৎসব উপভোগ করতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মনজুরুল হক,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মিরা,এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউল ইসলাম মজুমদার, পৌর মেয়র মোঃ সামসুল ইসলাম সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তা,জেলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আগত পর্যটকবৃন্দ সহ পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজারো জনসাধারণ।