রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ০২/০৭/২০২৪, ৯:৩৯ AM / ১৭
রাঙ্গামাটিতে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভা

রাঙামাটি সংবাদদাতা।

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জারিকৃত চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য ভূমিধসসহ সবকিছুর ক্ষতি মোকাবিলায় জরুরি সভা করেছে রাঙামাটি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান। সভায় সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা, তথ্য অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, রোভার স্কাউট সাধারন সম্পাদক নুরুল আবচার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় ৩০ শে জুন বিকেল ৪টা থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসেরও আশংকার কথা জানিয়েছে তাঁরা। ভারী বর্ষণ শুরু হলে ভূমিধসের ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ের ঢালে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ২৯টি এবং রাঙামাটি জেলায় মোট ২৬৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় থেমে থেমে  বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পাহাড় ধসের আশংকা রাঙামাটিতে। বৃষ্টি বলয়টি বাংলাদেশে থাকবে ২৯ জুন থেকে ৭জুলাই পর্যন্ত। এই সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বেশকিছু বিভাগে সর্বাধিক বৃষ্টি হতে পারে। যার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের সর্তকতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সকাল থেকে রাঙামাটিতে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যহত রয়েছে।রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে,শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ঘন্টায় ১৮দশমিক ৬মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাঙামাটিতে পাহাড়ের পাদদেশে কি পরিমাণ মানুষ ঝুঁকিতে বসবাস করছে তার সঠিক তথ্য না থাকলেও অতীতের জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুসারে জেলায় পাঁচ হাজার পরিবারের ২০ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে বসবাস করছে। জেলা শহরে পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে ৩১টি পয়েন্ট। যার মধ্যে শিমুলতলী, রূপনগর, যুব উন্নয়ন এলাকা অন্যতম। এইসব এলাকায় জনবসতি কমার পরিবর্তে প্রতিবছর নতুন নতুন জনবসতি সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে সরকারি নানা সুযোগ সুবিধা। উল্লেখ্য,রাঙামাটিতে ২০১৭ সালের ১৩জুন পাহাড় ধসে ৫জন সেনা সদস্যসহ ১২০জন,২০১৮সালে ১১জনের মৃত্যু হয়েছে।