সীমান্তে আবারো গোলাগুলির শব্দ আতংকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৬/০৯/২০২২, ২:৫৫ PM / ১৮
সীমান্তে আবারো গোলাগুলির শব্দ আতংকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।

আব্দুর রশিদ নাইক্ষ্যংছড়ি।

বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী মায়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে গোলাগুলি বন্ধ থাকার চারদিন পর ফের (১৬ সেপ্টেম্বর) শুক্রবার সকাল থেকে মায়ানমারের অভ্যন্তরে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের মিয়ানমার সীমান্তের এপারে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। পাশাপাশি নবস্থাপিত পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া পরীক্ষার্থীদের মাঝে বেশী আতংক দেখা দেয়। তুমরু বাজার ব্যবসায়ীরা কিছুটা সহনশীল হলেও চাকমা ও তঞ্চঙ্গা নৃ-গোষ্টির লোকজন আতঙ্ক গ্রস্থ হয়ে পড়ে।

বাইশাফাঁড়ি ও উত্তরপাড়া থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়া অংপ্রু তংচঙ্গা,রোকেয়া বেগম ও রহিমা আক্তার বলেন,তারা ভয়ে ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন।কেননা রাতে পড়ার টেবিলে মিয়ানমারের গোলার শব্দ তাদের আতংকিত করলেও কিছুটা সহনীয় ছিলো। কেননা বাড়ির সবাই পাশে ছিলো।কিন্তু সকালে গোলাগুলির আওয়াজ ভেদ করে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অনেক ভয় তাদের তাড়া করে। আর তাও প্রথম পরীক্ষা। দুই ভয় তাদের আতংক গ্রস্থ করে।

তুমব্রু মধ্যম পাড়ার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম,৫৮ বয়সী তুমব্রু বাজার ব্যবসায়ী বদিউল আলম জানান,বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অসংখ্যা গোলার আওয়াজ তারা শুনেছেন। অনেক বড় আওয়াজের গোলার শব্দ ১০ টির উপর। যা ছিল মর্টার শেলের আওয়াজ। তারা আরো বলেন, মঙ্গলবার রাত ৩ টার দিকে তারা জেড বিমান আসার আওয়াজ শুনে বাড়ির উঠানে বের হয়ে দেখেন,তা ছিল তুমব্রু সীমান্তের ওপারে। তবে তুমব্রু গ্রামের খুব সন্নিকটে।

তারা আক্ষেপ করে বলেন,কেন তারা এখানে বসতঘর করলেন। কারণ কখন তাদের বসতবাড়ি বা এলাকায় গোলা এসে পড়ে। কেননা গত ২৪ আগষ্ট ও ৩১ আগষ্ট তাদের গ্রামে মিয়ানমারের গোলা এসে পড়ায় তারা সে থেকে চরম আতংকে থাকে সব সময়। এভাবে বৃদ্ধা৷ জাফর আহমদ, তাবু তালেব ও শফিক মিয়া সহ সকলের একই অনুভূতি।

তুমব্রু কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মৌলানা নুরুল আজিম বলেন,বৃহস্পতিবার সকালে গোলার আওয়াজে তার এবং তার মুসল্লীদের মনে চরম আতংক। বুক কেঁপে উঠে তাদের। ত মসজিদটি তুমব্রু সীমান্তের সাথে মাত্র ১ শত / দেড়শ গজের মধ্যে অবস্থিত।

বাইশফাঁড়ি ওয়ার্ড়ের গ্রাম পুলিশ আবদুল জ্জাবার বলেন,তিনি রাতদিন এ সব গোলার শব্দ শুনেন আর ভাবেন। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন করে গোলাগুলির আওয়াজ যেন নতুন আতংক তার মাঝে।

নো ম্যানস-ল্যান্ডে বসবাসরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, আজকেও (শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে থেমে থেমে থেমে গূলির শব্দ পাওয়া গেছে। আসলে এ ‘গুলিখেলার’ শেষ কবে হবে, তার কোনও হিসেব নেই। আমাদের শিবিরের শিশু ও নারীরা ভয়ে থাকে। আর আমরা গোলাগুলির শব্দ শুনতে শুনতে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘সীমান্তে প্রায় একমাস ধরে চলছেই গোলাগুলি। কোনও পরিবর্তন আসেনি। মায়ানমার আইন লঙ্ঘন করে চলছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আমার এলাকার মানুষের অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে চাষিরা কষ্টে আছেন। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।’

নো ম্যানস-ল্যান্ডে দায়িত্বে থাকা বিজিবির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে জানান, সীমান্তের অবস্থা খুব খারাপ। এখানে লোকজনের চলাচলে সতর্ক করা হয়েছে। জরুরি কাজ না থাকলে এখানকার লোকজনকে ঘোরাফেরা না করতে বলা হয়েছে।

 

 

 

রামু উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেষ্ঠ সভাপতি সাংবাদিক হাফিজ।