স্বামী সংসার স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা চায় রুনা ত্রিপুরা


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ২৭/০৪/২০২৪, ৭:৫৬ PM / ৪৫
স্বামী সংসার স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা চায় রুনা ত্রিপুরা

জয়বাংলা নিউজ ডেস্ক।

 

দাম্পত্য জীবনের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও পরকিয়া সম্পর্কের অভিযোগের কারনে ভাঙ্গতে বসেছে ১২ বছরের রুনা ত্রিপুরা ও বীর বাহাদুর ত্রিপুরার সংসার।যে ঘরে আছে ১০ বছর বয়সী একটি কন্যা, নাম মাহি ত্রিপুরা।ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে প্রতিবেদকের কাছে স্ত্রী শিউলী ত্রিপুরার (রুনা) দেয়া  বর্ননায়।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার সদর ইউপির রুমা থানা পাড়া এলাকার বাসিন্দা শিউলী ত্রিপুরা (রুনা),নিজের পৈতৃক বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার জিরো মাইল এলাকায়। ১০ বছর বয়সের মেয়ে  মাহি ত্রিপুরা কে নিয়ে বসবাস করছেন বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা সদরে।
রুনা ত্রিপুরার দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী ২০১২ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রামের প্রি পোর্ট এলাকায়  এ এমবি গার্মেন্টস এ চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার রাইক্ষং এর ছেলে বীর বাহাদুর ত্রিপুরার সাথে।

পরিচয় সুত্রে তাদের মধ্যে প্রনয় ও দুই জনের মধ্যে পছন্দের সুত্রে একে অপরের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।প্রথমে নিজেরা কোর্ট ম্যারেজ করলেও পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়।বিয়ের চারমাসের মাথায় তাদের পরিবারের বিভিন্ন কারনে একে অপরের মাঝে সমস্যা শুরু হয় পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস ও বনিবনা না হওয়ার কারনে স্ত্রী রুনা ত্রিপুরা মনে করে পরিবারে কোন সন্তান না থাকায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে এর প্রেক্ষিতে তারা সন্তান নেয়। তাদের ঘর আলো করে পরিবারে আশে এক কন্যা শিশু তার নাম মাহি ত্রিপুরা।

স্ত্রী রুনা ত্রিপুরার দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী সন্তান আশার পরেও স্বামী অন্য মেয়ের প্রতি আসক্তি নিয়ে তাদের মাঝে বনিবনা না হলে বিয়ের ৬ বছর পর তারা চট্টগ্রাম হতে তার স্বামী বির বাহাদুর ত্রিপুরার বাড়ি রাঙ্গামাটি চলে আশে।

এদিকে স্ত্রী অভিযোগ করে বলে আশার পথে দুর্গম পাহাড়ি পথে তাকে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলো স্বামী বির বাহাদুর ত্রিপুরা।পরে সৃষ্টি কর্তার মেহেরবানীতে সেই যাত্রায় প্রানে বেচে যায়।হত্যার বিষয়টি স্বামীর পরিচিত বিজয় ত্রিপুরার কাছে স্বিকার করেছিলো বির বাহাদুর ত্রিপুরা।এদিকে স্বামীর একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি অনেকের কাছেই প্রকাশ পেয়েছে বলে জানায় স্ত্রী রুনা।

শ্বশুর বাড়িতে আশার পর  স্বামীর ইনকাম না থাকা ও তার স্বামীর সাথে অন্য মেয়ের পরকিয়া সহ বিভিন্ন কারণে পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকে একপর্যায়ে তার স্বামীর বড় ভাই রুনা ত্রিপুরাকে তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি চলে যেতে বলে।

পরে তার স্বামী বির বাহাদুর ত্রিপুরা, স্ত্রী রুনা ত্রিপুরা ও তাদের কন্যা মাহি ত্রিপুরাকে নিয়ে রুমা উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া করে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

রুমায় এশে রুনা ত্রিপুরা বাজারে সবজি বিক্রির কাজ শুরু করে এছাড়া ব্রিকফিল্ডে ইট টানার কাজ করে পরিবারের বিভিন্ন খরচ বহন করে রুনা ত্রিপুরা।এদিকে স্বামী বির বাহাদুর ত্রিপুরা স্থানীয় একটি তেলের দোকানে কাজ করা শুরু করে।তখনো তাদের সংসারে বিভিন্ন কারণে বনিবনা হয়না বলে উঠে আশে রুনা ত্রিপুরার বক্তব্যে।শাররীক ভাবে তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করেছে তার স্বামী।এদিকে দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে গার্মেন্টস এ থাকা অবস্থায় প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আনার জন্য ফোন আশে রুনার কাছে।মেয়ে মাহি ত্রিপুরাকে সংঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে ফান্ডের ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আশে রুনা।

পরিবারের সচ্ছলতার কথা ভেবে সেই টাকা দিয়ে বাড়তি ব্যবসা করার পথ খুজে রুনা ত্রিপুরা।পরে স্বামীর কথায় সেই টাকা থেকেও বিভিন্ন সময়ে তাকে টাকা দেয়।তবে এতেও দুই জনের মাঝে বনিবনা হয় না।ক্রমেই দুরত্ব বাড়তে থাকে স্বামী স্ত্রীর মাঝে।পরিবারের সমস্ত খরচ বহন করতে হয় স্ত্রী রুনা ত্রিপুরার। এক পর্যায়ে তাদের রেখে স্বামী বির বাহাদুর ত্রিপুরা নিরুদ্দেশ হয়।স্বামীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নাম্বার ব্লাক লিস্টে রাখায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।এদিকে মাসের পর মাস স্ত্রী ও কন্যার ভরনপোষণ দেয় না স্বামী বির বাহাদুর ত্রিপুরা।

ঘটনার বিষয়ে বির বাহাদুর ত্রিপুরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমাদের পারিবারিক বিষয়ে তৃতীয় কেউ কথা বলুক আমি চাই না।আমাকে সময় দিতে হবে,আমি সময় মতো তাদের সাথে যোগাযোগ করবো।বর্তমানে আমি কুমিল্লায় একটি গার্মেন্টস এ চাকরি করছি।কোরবানির ছুটিতে পারলে তাদের সাথে দেখা করবো।স্ত্রীর সাথে সংসার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে সে যানায় সময় হলে আমি তাদের সাথে দেখা করে কথা বলবো।

এদিকে স্বামীর কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছেনা স্ত্রী রুনা ত্রিপুরা।সে জানায় সে তাদের সাথে আর যোগাযোগ করবে না বলে জানিয়েছেন এখন আমি নিরুপায়,মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিতায় আছি।আমার কেউ নেই তাই আমাদের সংসার টিকানোর জন্য মানবাধিকার সংগঠন ও আইনের সহযোগিতা চাই।আমি চাই আমার স্বামী ফিরে আশুক।এদিকে পিতা মাতার  সম্পর্ক আবারও স্বাভাবিক হোক এমনটাই চায় ১০ বছর বয়সী কন্যা মাহি ত্রিপুরা।সে জানায় এখন তার স্কুলের বেতন বকেয়া পড়ে আছে।বাবা কাছে না থাকাতে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।১০ বছরের কন্যার মুখে বর্তমান পরিস্থিতির বর্ননা, যা সত্যি হৃদয় বিদারক।

এ বিষয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী জানান কোন নারী আমাদের কাছে এ ধরনের বিষয়ে সহযোগীতা চাইতে আসলে আমরা প্রাথমিক ভাবে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিরসনের চেষ্টা করি।তবে পরবর্তীতে আইনগতভাবে যদি সহযোগিতা প্রদানের প্রয়োজন হয় এবং সেই নারীর যদি আর্থিক সমস্যা থাকে তাহলে জেলা লিগ্যাল এইড এ বিষয়টি উপস্থাপন পূর্বক তাকে আইনি সকল সুবিধা পেতেও সহায়তা করা হয়।