জলের অনিন্দ্য সৌন্দর্য পালং খিয়াং ঝর্ণা।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ০৪/০২/২০২৩, ১০:৪১ PM / ১৮৯
জলের অনিন্দ্য সৌন্দর্য পালং খিয়াং ঝর্ণা।

প্রশান্ত দে, আলীকদম প্রতিনিধি।

 

ঝর্ণা দেখতে কে না ভালোবাসে । প্রকৃতির অনেক সুন্দরের মাঝে ঝর্ণা হলো অন্যতম । প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ শুধু মাত্র ঝর্ণা দেখার জন্য বিভিন্ন যায়গায় ঘুরতে যায় । পর্যটকদের মতে বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় এ পর্যন্ত পর্যটকদের নজরে আসা ঝর্ণাগুলোর মধ্যে পালং খিয়াং অন্যতম। পালং খিয়াং এর রূপ দেখতে যাওয়ার আগে পাড়ি দিতে হয় তৈনখালের পাথুরে দীর্ঘপথ। বড় চমৎকার এ পথ, যেন পরীর রাজ্য। তৈনখাল খরস্রোতা মাতামুহুরীর একটি উপনদী।

তৈনখালের পাথুরে রাস্তা দিয়ে, কখনো-বা উঁচু পাহাড় ডিঙ্গিয়ে পালং খিয়াং ঝর্ণায় যেতে হয়। তবে ঝর্ণায় যাওয়ার পথে তৈনখালের যে নৈসর্গিক রূপ তাও পর্যটকগণের নিকট আকষর্ণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে দুর্গমতার কারণে খুব বেশী পর্যটক সেখানে পৌঁছাতে পারেন নি।

তৈনখালের বাঁকে বাঁকে নাতিদীর্ঘ পাহাড় চূঁড়ায় মুরুং, ত্রিপুরা, মার্মাদের খড়েছাওয়া ঘর, ছয়াভরা শান্ত গ্রাম্য পথ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঝিরি-ঝর্ণা, পরিচিত পাখির কাকলী- এসব যেন মর্তের পৃথিবীতে এক স্বপ্নরাজ্য! শহুরে রঙিন জনপদ এর চেয়ে কোন অংশে মূল্যবান নয়।

 

এ খালের দু’পাশজুড়ে ঘন অরণ্যের লতাবিতানে সারা বছরজুড়েই থাকে বন্যপুষ্পের মেলা। খালের দুইপাশেই কিছুদুর পরপর ছোটখাট ঝর্ণাধারা বয়ে চলেছে। শোনা যায় গাছের ডালে ডালে নানা রঙের পাখির কিচির মিছির শব্দ। কিন্তু সব শব্দকে ছাড়িয়ে নিজের অস্তিত্বকে তিনটি পানি স্রোতের কুলুকুল ধ্বনীতে জানান দিচ্ছে পালং খিয়াং ঝর্ণা। এ বুনো ঝর্ণার প্রকৃতিক রূপে যেকোন পর্যটক মুগ্ধ হন।

কিভাবে যাবেন
আলীকদম-পানবাজার-আমতলী নদী ঘাট। নৌকাযোগে তৈনখাল দিয়ে দোছরি বাজার। এরপর তৈনখাল দিয়ে হেঁটে থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা-হাজরাম পাড়া-পালংখিয়াং ঝর্ণা।

বিকল্প পথ আলীকদম-থানচি সড়কের ১৩ কিঃ মিঃ। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে দোছরি বাজার-থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা-হাজরাম পাড়া-পালংখিয়াং ঝর্ণা। হাজিরাম পাড়া থেকে এ ঝর্ণায় যেতে ৩-৪ ঘন্টা হাঁটতে হয়।

অন্যান্য তথ্যঃ আমতলি ঘাট থেকে দুছড়ি বাজার ট্রলারে কমপক্ষে দুইঘন্টা। সেখানে নেমে তৈন খালের উজানে ট্রেক করতে হবে। হাটার প্রথম ১.৩০ মিনিটের মাথায় পড়বে থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা, যেটা হাজরাম পাড়ার নিচে। ঝর্ণা দেখা শেষ হলে হাজরাম পাড়া যাওয়ার জন্য পাহাড় চড়তে হবে। এর নিচে খুম থাকায় ক্রস করা যায় না। চাইলে রাত্রি যাপন হাজরাম পাড়ায়। পরদিন সকালে আরো উজানে যেতে থাকবেন। তিন ঘন্টা পর পড়বে পালংখিয়াং ঝর্ণা। আর এর এক ঘন্টা পর লাদ মেরাগ ঝর্ণা। দুর্গম পথ হওয়ায় প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র সঙ্গে রাখবেন।

আলীকদম ট্যুর গাইড এসোসিয়েশন এর সভাপতি মো: শেখ সেলিম জানান বছরে সব সময় অসংখ্য পর্যটক এইখানে ঘুরতে আসেন। আলীকদম ট্যুর গাইড এসোসিয়েশন সকল পর্যটক দের একটি আনন্দদায়ক ভ্রমনের সহযোগীতা করে। সকল পরামর্শ ও ট্যুরিষ্ট সেবার জন্য 01828877230 যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন বর্ষায় ঝর্না গুলো সৌন্দর্যময় পরিপূর্ণতা পায়। দূর্গম এলাকায় হওয়ায় অব্যশই স্থানীয় লোকাল গাইড নিয়ে যাওয়া জন্য পরামর্শ দেন তিনি।

 

 

 

 

“মানবিক যুব সমাজ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে – সোশ্যাল ইয়ুথ একটিভিস্ট ফোরাম “