বাজারে জ্যৈষ্ট মাসের বাহারি রঙ্গিন ফলের সমারোহ


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৮/০৫/২০২৩, ৯:৪০ PM / ১৭০
বাজারে জ্যৈষ্ট মাসের বাহারি রঙ্গিন ফলের সমারোহ

মোঃ শহীদুল ইসলাম।

বাহারি  মৌসুমি ফলের মাস জ্যৈষ্ঠ।অনেকেই এই মাসে বাজারে রকমারি ফলের সমারোহের কারনে মাসটিকে মধু মাস বা রসের মাস বলে থাকে।
সে যাই হোক বাংলাদের ষড়ঋতুর মাঝে জ্যৈষ্ঠ মাসেই সবচেয়ে বেশি মৌসুমি ফল দেখতে পাওয়া যায়।

প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরেই জৈষ্ঠ্য মাসে পাকা আম, কাঁঠাল, লিচু,আনারস, তরমুজ, ডেউয়া, লটকন, কালোজাম, গোলাপ জাম, বেতফল, গাব,
জামরুল, আতাফল, কাউ, শরীফাসহ সব ফলই যেনো খুব আমেজ করে খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।

অতিথি আপ্যায়নে মেহমানদারীতে কিংবা কোথাও বেড়াতে গেলেও বেশিরভাগ মানুষ মিস্টির পরিবর্তে নিয়ে জান বাজারে নতুন আশা রকমারি সব ফল।যথারীতি এই বছরেও বান্দরবান জেলা সদর ও আশপাশের বাজারে নানা ফল আসা শুরু হয়েছে।

রশে ভরা হরেক স্বাধের হরেক ফল।বছরের এই সময়টাতে নানা রকম সুস্বাদু রসালো মৌসুমি ফলের সমাগম ঘটে শহরের হাট বাজার গুলোতে।

বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি,রুমা,থানচি সহ বেশ কয়েকটি উপজেলা হতে বান্দরবান সহ পার্শ্ববর্তী জেলায় যায় পাহাড়ি বাগানের রশালো ফল।
বর্তমান সরকারের আমলে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এর প্রচেষ্টায় এখন সকল উপজেলার সাথে জেলা সদর ও পার্শ্ববর্তী জেলায় যাতায়াতের রাস্তাঘাট অভুতপূর্ব উন্নয়নের ফলে এখন কৃষি পণ্য পরিবহনে যেমন খরচ কমেছে তেমনি সময় ও ভোগান্তি  কমেছে অনেক।

বান্দরবান জেলা সদরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেলো নিয়মিত ফলের দোকান গুলো ছাড়াও বিভিন্ন রাস্তার পাশে ও মোড়ের দোকান গিলোতে বাহারী মৌসুমি ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানীররা।

ফলের দোকানীরা জানালেন  চিম্বুক রোড়ের বেশ কয়েকটি এলাকা হতে আম,আনারশ,লিচু,কাঠাল সহ বেশ কয়েকটি ফল স্থানীয় বাজার গুলোতে আসছে।তবে স্থানীয় কৃষকেরা জানালেন এ বছর এই এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমান কম থাকায় আশানুরূপ ফলন না পেলেও সন্তুষ্ট আছেন।

যাতায়াত সুবিধা পূর্বের চেয়ে ভালো থকায় বাগান থেকে অনেক কৃষিজাত পণ্য ও ফলমূল নিজেরাই জেলা সদরে পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসতে পারেন।এতে করে দামে কিছুটা লাভ করা সম্ভব হয়।

বান্দরবান বাজারের ফল ব্যাবসায়ি  মোঃ নজরুল ইসলাম ও বিকাশ সেন জানালেন বাজারে এখন জ্যৈষ্ঠ মাসের সবগুলো ফলই তার দোকানে বিক্রির জন্য রেখেছেন।ফলের বাজারের বর্তমান দাম সম্পর্কে তিনি জানান অন্য জেলা হতে আশা মৌসুমি ফলের চাহিদা বাজারে থাকলেও স্থানীয় বাগানের  ফলের চাহিদাও কম না,এতে দাম ও মানে সাশ্রয় পায় ক্রেতা সাধারণ।বর্তমানে ফলের বাজারে দাম কিছুটা কম।

বাজার ঘুরে বর্তমান বাজারে দেখাগেলো কাঠাল – প্রতি পিস ১০০- ৫০ টাকা,বোম্বাই লিচু প্রতি বান্ডেল –১২০-১৫০,চায়না-৩ ২৫০ টাকা,মল্লিকা,আমরুপালির কেজি চলছে ৪০ টাকা,তরমুজ প্রতি পিস -১৫০,তাল প্রতি পিস ৩০ টাকা,দেশি আম- ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস.এম শাহ নেওয়াজ এর দেয়া তথ্য মতে গত অর্থবছরে বান্দরবান জেলা সদর উপজেলা সহ ৬ টি উপজেলায়  মোট ৯৮০৯ হেঃ জমিতে দেশিয়,রাঙ্গুয়াই,আম্রোপালী  আমের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে ১১১২০৭ মেঃটন আম।যা চলতি অর্থবছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০০০০ মেঃটন।

গত অর্থবছরে জেলায় মোট ৩৭৯৪ হেঃ জমিতে আনারসের চাষাবাদ করা হয়েছে যা থেকে ৯৯৫৫৭ মেঃ টন আনারস উৎপাদন হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে উৎপাদন  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০০০ মেঃ টন।

গত অর্থবছরে জেলায় মোট ১২৯০ হেঃ জমিতে লিচু চাষাবাদ করা হয়েছে যা থেকে ৮৪১৭ মেঃ টন আনারস উৎপাদন হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে উৎপাদন  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯০০০ মেঃ টন।

গত অর্থবছরে জেলায় মোট ২৭৭৭ হেঃ জমিতে কাঠাল চাষাবাদ করা হয়েছে যা থেকে ১২০৫৫৬ মেঃ টন কাঠাল উৎপাদন হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে উৎপাদন  লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৫০০০ মেঃ টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে চলতি  অর্থবছরে  প্রকৃতিক কারনে বিশেষ করে প্রচন্ড দাবদাহে এবং পানির পর্যাপ্ততা না থাকায় ফলের  গাছের পরিচর্যা অনেকটা বিগ্নিত হয়েছে যার ফলে এ বছর  মৌসুমি ফলের  উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রভাব পড়তে পারে।তবে অধিক ফলন উৎপাদনের জন্য মাঠ পর্যায়ে আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের নানা পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন।

সবকিছু মিলিয়ে বাজারে আসতে শুরু করেছে জ্যৈষ্ট মাসের মুখরোচক রসালো ফল,স্থানীয়  কৃষকদের দাবী স্থানীয় উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্যের উপর জনসাধারণ যেনো বেশি প্রধান্য দেয় এতে জেলার কৃষি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন-

কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত