বান্দরবানের ফুলঝাড়ুর চাহিদা বেড়েছে দেশের সকল জেলায়  


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৭/০২/২০২৪, ৯:৫৭ AM / ৯৮
বান্দরবানের ফুলঝাড়ুর চাহিদা বেড়েছে দেশের সকল জেলায়  

 

“বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনিস্টিউট চট্টগ্রামে গবেষকদের কাছে ফুলঝাড়ু চাষের প্রযুক্তি আছে।নিজের পতিত জমিতে ফুলঝাড়ু চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বনবিভাগ – মোঃ আবদুর রহমান (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বান্দরবান)।”

দেশের বিভিন্ন জেলায় কদর বাড়ছে বান্দরবানের পাহাড়ি ফুলঝাড়ুর।প্রাকৃতিক ভাবে পাহাড়ে জন্ম নেয়া উলু ফুল গাছ স্থানীয়রা পাহাড়ে গিয়ে তা সংগ্রহ করেন, সংগ্রহের পর অনেকেই তা শুকিয়ে এবং কাচা অবস্থায় আটি বেধে নিয়ে আশেন স্থানীয় বাজারে, সেখান থেকে পাইকারি ব্যবসায়িরা তা কিনে নিয়ে ,পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, দোহাজারী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে এসব ফুলঝাড়ু বিক্রি করছেন।

 

 

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় সমান জনপ্রিয়তা আছে পাহাড়ের ফুলঝাড়ুর,স্থানীয় বাজার থেকে ফুল ঝাড়ু যাচ্ছে চট্টগ্রাম সহ রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্ন জেলা সদরে।
ঘর পরিস্কারের জন্য ফুলঝাড়ু গ্রাম ছাড়িয়ে এখন শহরের মানুষের কাছেও সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বান্দরবান জেলার রুমা, আলীকদম, থানচি,রোয়াংছড়ি উপজেলায় প্রচুর পরিমানে ফুলঝাড়ু আহরণ করে স্থানীয় জনসাধারণ।জেলা সদরের সবচেয়ে বড় কলাবাজার,মার্মা বাজারে বিক্রি হয় পাইকারি ফুলঝাড়ু।

পাইকারি ফুলঝাড়ু ক্রেতা সৈয়দুল হক জানালেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম সহ ঢাকা, খুলনা সহ সব জেলায় বান্দরবানের ফুলঝাড়ু যাচ্ছে।

পাইকারি ক্রেতা মোঃ মোমিন জানালেন পাহাড়িদের কাছ হতে ফুলঝাড়ু কিনে তা বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করছেন,তবে রাস্তায় রাস্তায় চাঁদা ও বিভিন্ন টেক্স দেয়ার কারনে খুদ্র ব্যবসায়িরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে,তাই অনেক সময় খুব ভোর বেলা লুকিয়েই আনতে হয় বাজারে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ব্যবসায়ি জানালেন মাল আনতে পথে পথে পাহাড়ি আঞ্চলিক কয়েকটি সংগঠনকে দিতে হয় চাঁদা।

 

সাইঙ্গার বাসিন্দা উচলা জানান দুর্গম পাহাড় থেকে ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে,বাড়িতে পরিস্কার করে ৫০০ পিস ফুল থেকে একটি ঝাড়ুতে ২০ পিস করে ফুল দিয়ে ২৫ টি ফুল ঝাড়ু তৈরি হয়।২৫ টি ফুল ঝাড়ুর আটি বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।যা ট্রাকে করে জেলার পার্শ্ববর্তী জেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতি পিস ফুলঝাড়ু বাধাই এবং সৌন্দর্যের উপর নির্ভর কর পাইকারি ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা বিক্রি হয়, তবে সবসময় একই দাম পাওয়া যায় না।খুচরা বাজারে একএকটি ফুলঝাড়ু ৪০-৫০ টাকা করে বিক্রি হয়।

এ বিষয়ে বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহমান বলেন ফুলঝাড়ু পাহাড়ি অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ,এটা বনের মাটি ক্ষয়রোধ করে,এর শেকড় গুলো ছড়িয়ে থাকার কারনে যে কোন বনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান,এটা হাতিরো প্রাকৃতিক খাবার তাই সরকার ফুলঝাড়ু সংগ্রহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করারা জন্য সরকার রাজস্ব আরোপ করে থাকে।

তিনি বলেন বর্তমানে প্রতিটি ফুলঝুড়া ভ্রুম এর রাজস্ব ৩৫ পয়সা,২২-২৩ অর্থবছরে বান্দরবান বন বিভগের অন্তর্গত ২ লক্ষ ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করা হয়েছে যা থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৭০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন এখানে রাজস্ব টা মূখ্য না,মূখ্য একটি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও জীবীকার একটি উৎস হিসেবে টিকিয়ে রাখা,অনেক মানুষ এই পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তিনি জানান প্রাকৃতিক বনে বিশেষ করে জুম চাষের কারনে ফুলঝাড়ু অনেক কমে আসছে,এখন ফুলঝাড়ু চাষের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

 

তিনি বলেন বনবিভাগের কাছে এবং বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনিস্টিউট চট্টগ্রামে গবেষকদের কাছে ফুলঝাড়ু চাষের প্রযুক্তি আছে।এটা খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা,যদি কেউ চান ফুলঝাড়ু চাষাবাদ করবেন আমরা বনবিভাগের উদ্যোগে তাকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো।জুম চাষের বিকল্প হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণকারী প্রযুক্তি হিসেবে ফুলঝাড়ু চাষে যারা আগ্রহী আমরা যোগ দিতে চাই।

জয়বাংলা নিউজ কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বান্দরবান বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আবদুর রহমান জানান পার্বত্য বান্দরবান সহ পার্বত্য অঞ্চল গুলোতে ব্যপক ভাবে ফুলঝাড়ুর চাষাবাদ করা সম্ভব এবং এটি লাভজনক একটি ব্যবসা হিসেবে যে কেউ নিজের পতিত জমিতে এটা চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন, দেশের অর্থনীতিতে রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে রাখতে পারবেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

 

মোঃ শহীদুল ইসলাম, জয়বাংলা নিউজ ডেস্ক।