রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ২৪/০৩/২০২১, ১:০৮ PM /
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ও ক্রাণ সচিব মো. মহসীন এই তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কার্যালয়ে অগ্নিকান্ডের বিষয়ে এক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দুর্যোগ ও ত্রাণ সচিব মো. মহসীন জানান, মৃতদের মধ্যে ক্যাম্প ৮ এর ই-তে একজন, একই ক্যাম্পের ডবিøও ব্লকে পাঁচজন এবং ক্যাম্প-৯ এ পাঁচজন মারা গেছেন। অন্যদিকে আগুনে পুড়ে গেছে ৯ হাজার ৩০০ বসতি। এসব বসতিতে বাস করা প্রায় ৪৫ হাজার লোক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সচিব জানান, আগুনে বাস্তুহারা ও ক্ষতিগ্রস্তদের একজনকেও যেন না খেয়ে থাকতে না হয় সে জন্য সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা সরকারের সাথে কাজ করছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতসহ সকল বিষয়ে অনুসন্ধান করতে কাজ করবে এই তদন্ত কমিটি। তিন দিনের মধ্যে এই কমিটি সরকারকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।

আইএসসিজির যোগাযোগ ও গণসংযোগ কর্মকর্তা সাইয়্যেদ মো. তাফহীম এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রাথমিক পরিসংখ্যানে উখিয়ার বালুখালিরোহিঙ্গা ৮-ই ও ডাব্লিউ, ৯ ও ১০ এ চার ক্যাম্পে সোমবারের অগ্নিকান্ডে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছে। আগুন থেকে রক্ষা পেতে গিয়ে আহত হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৬০০ জন। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে নানা বয়সী প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গা। ক্যাম্পে কাজ করা এনজিওর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যের সমন্বয়ে এ তথ্য জানা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, অগ্নিকান্ডে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ঘর পুড়ে গিয়ে প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতাল, বিতরণ কেন্দ্র, শিখন কেন্দ্র, মহিলা বান্ধব পরিসেবাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলিও।
সচিব জানান, দুপুর পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মাঝে ৩ জন শিশু ও ২ জন বয়স্ক লোক রয়েছে।

আইএসসিজির ক্যাম্প ভিত্তিক কর্মকান্ড তদারকির জন্য তৈরি (১৮ জানুয়ারি) একটি ডাটাবেইজের হিসাব অনুসারে জানা গেছে, বালুখালীর ক্যাম্প ৮-ইতে ঘরের সংখ্যা ৬ হাজার ২৫০ আর লোকসংখ্যা ২৯ হাজার ৪৭২ জন, ৮-ডাব্লিউ ক্যাম্পে বাড়ি ৬ হাজার ৬১৩টি আর লোকসংখ্যা ৩০ হাজার ৭৪৩ জন, ক্যাম্প ৯-তে বাড়ি ৭ হাজার ২০০টি আর লোকসংখ্যা ৩২ হাজার ৯৬৩ জন এবং ক্যাম্প ১০-এ বাড়ি ৬ হাজার ৩২০টি আর লোকসংখ্যা ২৯ হাজার ৭০৯ জন। এ হিসাবে চার ক্যাম্পে বাড়ির সংখ্যা ছিল ২৬ হাজার ৩৮৩টি। আর এসব ক্যাম্পে জনসংখ্যা ছিল এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৭ জন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দোজা নয়ন জানান, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের কয়েক স্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে ঘটনা তদারকি করছেন। এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার ঘর পুড়ে গেছে। এসব ঘরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকালে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে এ পর্যন্ত ১১ জন মারা যাবার তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে রয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্তের হিসাবে এসে প্রায় ১০ হাজার। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাসপাতাল, বিতরণ কেন্দ্র, শিখন কেন্দ্র, মহিলা বান্ধব পরিসেবাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলিও। আগুনে পুড়ে গেছে কয়েকশ বাংলাদেশী পরিবারের বসতবাড়িও। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবিও বিরামহীন কাজ করে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকাল ৪টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ৮-ই ও ডাবিøউ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাÐের ঘটনা ঘটে। তা মুহূর্তে পার্শবর্তী ৯ ও ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ রাত ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে যায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাদের ঝুঁপড়ি ঘর। এছাড়াও পুড়ে গেছে দেশি বিদেশি বিভিন্ন এনজিও অফিস ও পুলিশ ব্যারাক।