রোয়াংছড়ি আশিঁর দশকের ১২টি ঝুঁকি পূর্ণ বেইলি ব্রীজ-দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের আশ্বাস সড়ক বিভাগের।


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৮/০৮/২০২২, ১১:০৯ AM / ১২৪
রোয়াংছড়ি আশিঁর দশকের ১২টি ঝুঁকি পূর্ণ বেইলি ব্রীজ-দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের আশ্বাস সড়ক বিভাগের।

বিশেষ প্রতিবেদন – মোঃ শহীদুল ইসলাম

বান্দরবান জেলার সবচেয়ে নিকটবর্তী উপজেলা রোয়াংছড়ি।বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি উপজেলার দূরত্ব ২২ কিলোমিটার।জেলা সদর হতে উপজেলায় অথবা উপজেলা হতে জেলা সদর আশা,যাওয়ার পথে প্রধান সড়কে ১২টি বেইলি ব্রীজ আছে।সরজমিনে দেখা যায় অধিকাংশ বেইলি ব্রীজ এর লোহার পাটাতন কয়েকবার মেরামত করে ব্যাবহার করা হয়েছে।প্রত্যেক বেইলি সেতুর সামনেই ঝোলানো আছে ৫ টনের অধিক যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ।তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রই এই নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না।প্রতিনিয়ত মাঝারি ও ভারি যানবাহনের পাশাপাশি এই সড়কটিতে চলছে যাত্রী বাহী বাস,মিনিবাস,লেগুনা সহ ছোট বড় অশংখ যানবাহন।

সরজমিনে দেখা যায় এই সড়কে ছোট ও বড় মিলে প্রায় ১২টি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বেইলি সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচলে অনেকটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর মধ্যে রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরে তারাছা খালের ওপর পুরনো বেইলি সেতু,পুনর্বাসন পাড়া এলাকার বেইলি সেতু, ক্রাইক্ষ্যং পাড়া ও বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর এলাকার কালভার্ট সেতু এবং ৪ কিলোমিটার এলাকার স্বাগতম সেতু।

লক্ষ্য করা যায় দীর্ঘদিন ধরে পূনঃব্যাবহারের উপযোগী করার জন্য স্টিলের পাটাতন ঝালাই করে ঝুঁকি পূর্ণ স্থান,ব্যাবহার করা হচ্ছে।লোহার পাটাতন অনেক স্থানে উঠে আশায় জেলার বাহির হতে আগত বাইকার পর্যটকদের সম্ভাবনা থাকে অনাকাংখিত দুর্ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার।অনেক জায়গায় বৃষ্টি,পাহাড়ি ঢলের পানি বয়ে যাওয়ার কারনে খালের উপর স্থাপিত সেতুর নিচে বেইজের অংশে মাটি দেবে যাওয়ায় অনেকটা ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এতে ব্রীজের উপর যে কোনো সময়ে ভারি যানবাহন চলাচল করলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও ঐ রোড়ে যাতায়াতকারী যানবাহন চালক।

রোয়াংছড়িতে ছোট বড় মিলিয়ে ১২ টি ব্রিজ রয়েছে

এ বিষয়ে ১নং রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা জয় বাংলা ডট নিউজ কে বলেন রোয়াংছড়িতে ছোট বড় মিলিয়ে ১২ টি ব্রিজ রয়েছে,অধিকাংশ ব্রিজ পুরনো যা সংস্কার করে ব্যাবহার করা হচ্ছে।তিনি বলেন এই উপজেলায় বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটন স্পট “দেবতাকুম” অবস্থিত।যেখানে বছরের প্রায় সবসময় দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পর্যটকের আনাগোনা থাকে।তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান অচিরেই যদি এ সকল পুরনো ব্রীজ গুলো নতুনভাবে করার উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে স্থানীয় জনসাধারণের জীবনমানের উন্নয়নে উপজেলা হতে বান্দরবান জেলা সদরের যাতায়াত ব্যাবস্থার উন্নতির পাশাপাশি কৃষি পণ্য পরিবহনে সহজ হবে এবং পর্যটন শীল্পেও এর প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগ বান্দরবান (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ্উদ্দীন চৌধুরী জয় বাংলা ডট নিউজ কে বলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা,স্থানীয় জনসাধারনের যাতায়াতের বাইরেও বিভিন্ন পর্যটকের আনাগোনা আছে এই উপজেলাতে।

তিনি আরো বলেন এই উপজেলায় নির্মিত ছোট বড় মিলিয়ে ১২ টির মতো ব্রীজ রয়েছে। অধিকাংশ ব্রিজ কালভার্ট আশিঁর দশকে নির্মিত,যা বর্তমানে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ন বিধায় সড়ক বিভাগ প্রতিনিয়তই এইসব ব্রীজ কালভার্টের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে ব্যাবহার উপযোগী করে আসছে।ইতিমধ্যে বান্দরবান সড়ক বিভাগ উপজেলার খানসামা ব্রীজ এর নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে,যার কাজ অচিরেই শেষ হবে এবং এই অর্থবছরে আরো একটি বেইলি ব্রীজের কাজ শুরু করা হবে।এই উপজেলায় বাকি আরো ১০টি বেইলি ব্রীজের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান আছে,এটা সমাপ্ত হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্প দাখিলের ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।আশাঁ করা যাচ্ছে অচিরেই এসব প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া সম্ভব হবে।

মোহাম্মদ মোসলেহ্উদ্দীন চৌধুরী আরো জানান ইতিমধ্যে বান্দরবান -রাঙ্গামাটি সড়কে ছয়টি বেইলি ব্রীজ,কালভার্টের প্রকল্প চলমান আছে।জেলা সদর ও ৬টি উপজেলায় ৬১টি ব্রীজ ও কালভার্টের ফিজিবিলিটি পরিক্ষা সমাপ্ত হয়েছে।অচিরেই এ সকল ব্রীজ ও কালভার্টের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন আছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন রোয়াংছড়ি উপজেলায় যাতায়াতের এ সকল পুরনো বেইলি ব্রীজ ও কালভার্ট নতুন ভাবে করা হলে সড়ক দূর্ঘটনায় অনেকটা ঝুঁকি এড়ানো যাবে, স্থানীয় জনসাধারণে জীবনযাত্রার উন্নতির পাশাপাশি,পর্যটক সমাগম বৃদ্ধি পাবে।

 

 

রাত ৮ টার পর জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট জরিমানা আদায়।