এবিসি ইটভাটায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে শতশত মন কাঠ


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ৩১/০১/২০২২, ৫:২৯ PM / ১৪
এবিসি ইটভাটায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে শতশত মন কাঠ

মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা, বান্দরবান সংবাদ দাতা: 
বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের গুংগ্রু পাড়া এলাকায় এবিসি  ব্রিকফিল্ডে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে ইট তৈরীর কাজে প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে শতশত মন বনের কাট,এছাড়াও ইটের প্রধান কাঁচামাল মাটি সংগ্রহের জন্য ইউনিয়নের সড়কের পাশের অনেক এলাকার আবাদি সমতল কৃষি জমির মাটি কেটে ও সাংগু নদীর চরে জেগে উঠা চরের বালি অবৈধ উত্তোলন করে ব্যবহার করা হচ্ছে  ব্রিকফিল্ডে।ফলে উজাড় হচ্ছে বিস্তীর্ণ বনভূমি ধংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশের  ভারসাম্য এতে শাররীক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণ।

সরজমিনে দেখা যায় রাস্তার পাশে আবাদি কৃষি জমি গুলোর রূপ পরিবর্তনের বিষয়ে কুহালং ইউনিয়নের গুংগ্রু পাড়ার উশৈউ রনি নামের একজন স্থানীয় জমির মালিকের সাথে কথা বল্লে  তিনি জানান তার কৃষি জমির মাটি এবিসি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মোঃইসলাম কোম্পানি নিয়ে যাচ্ছেন,ভারি স্কেবেটর দিয়ে কৃষি জমি থেকে মাটি তুলে ফেলার কারনে বর্তমান কৃষি জমিটি বিরাট পানি শুন্য দিঘিতে রূপ নিয়েছে।

যদিও এভাবে সমতল কৃষি জমির মাটি কাটা বা খননের মাধ্যমে জমির রূপ পরিবর্তনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি পত্রের প্রয়োজন আছে সে বিষয়ে মাটি বিক্রেতাদের কাছে  কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।তাছাড়া একই ইটভাটার জন্য  সাঙ্গু নদীর জেগে উঠা চর হতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে এতে নদির পাশের কৃষি জমিও হুমকির মুখে পড়তে পারে আগামী বর্ষা মৌসুমে।

বিগত সময়েও জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় জরিমানা আদায় করলেও এসব আইনের তোয়াক্কা না করাই যেনো তাদের নিত্যনৈমিত্তক কাজের অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।

ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যাবহারের কথা থাকলেও ব্যাবহার হচ্ছে বনের কাট আর কাঁচামাল হিসেবে জলাশয়ের মাটি ব্যাবহারের কথা থাকলেও ব্যাবহার হচ্ছে পাহাড় কাটা মাটি অথবা সমতল কৃষি  জমির মাটি ও নদি হতে উত্তোলন করা বালি।

ভারী স্কেবেটর দিয়ে পাহাড় ও সমতল কৃষি জমি কাটার ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইটভাটার কালো ধোয়া নিশস্বরনের ফলে বাতাসে অতিরিক্ত কার্বনডাইঅক্সাইড ছড়িয়ে পড়ছে ফলে ইটভাটা এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের জীবনযাত্রার উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

এছাড়াও প্রতিনিয়ত ইটভাটা হতে ওভারলোডিং ইট বোঝাই করে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করার কারনে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের রাস্তাগুলোর হয়েছে বেহাল দশা,আগামী বর্ষা মৌসুমে এসব রাস্তা খানাখন্দে পরিনত হবে ফলে চলাচলের অসুবিধায় পড়বে এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষি পন্য পরিবহনে ব্যাবহৃত ছোট গাড়ি।

এবিসি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী মোঃ ইসলাম কোম্পানির সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কৌশলে এ সকল বিষয় এড়িয়ে যান।

ইটভাটার বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কায়েসুর রহমান বলেন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে,প্রাকৃতিক বনাঞ্চাল ধংস করে ইটভাটায় কাঠ পোডানোর কারনে পরিবেশ হুমকির মুখে,যে সকল ইটভাটা এইসকল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের পক্ষ হতে ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন অবৈধভাবে পাহাড়ের মাটি কাটা,বনাঞ্চল উজাড় করে গাছ কেটে পোড়ানো,বালি উত্তোলন ও কৃষি জমির মাটি উত্তোলনের মাধ্যমে ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা কারীদের ব্যাপারে আমরা অবগত আছি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির ব্যাপারে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন সঠিক নিয়মে যারা ইটভাটা পরিচালনা করছে না তাদের শুধু জরিমানা দিয়ে নয় প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সরকারি নিয়ম মানানোর পাশাপাশি স্থানীয় ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনমত গড়ে তুল্লে ইটভাটায় এ ধরনের পরিবেশ বিপর্যয়কারী কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে।