এল.এ.এগ্রো নার্সারি চাষীদের মাঝে নিম্নমানের চারা বিতরণের অভিযোগ


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ০১/১১/২০২১, ১২:২৮ AM / ১৩
এল.এ.এগ্রো নার্সারি চাষীদের মাঝে নিম্নমানের চারা বিতরণের অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানে এল.এ.এগ্রো লিমিটেডে কাজু বাদাম চারা নিয়ে পাহাড়ের চাষীদের সঙ্গে প্রতারণা আশ্রয় নিয়েছে এল.এ. এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার সেলিম অগ্নি। এতে ক্ষতিসম্মুক্ষীন ও বিপাকে পড়েছে পাহাড়ি চাষীরা।

এইদিকে গত‌ ২০শে জুন ২০২০ গত বছরে কাজু বাদাম চারা নাসারী থেকে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার চারা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজু ও কফি প্রকল্পের মাধ্যমে নার্সারি থেকে কম্বোদিয়ান M-23 জাতের নামে কাজুবাদাম চারা কৃষকদের মাঝে বিতরন শুরু করা হয়।

কিন্তু সেই নার্সারি হতে কৃষকদের মাঝে ভালমানের কাজুবাদামের চারা বিতরণ না করে সব নষ্ট চারা বিতরণ শুরু করেন এল.এ.এগ্রো নার্সারি। বান্দরবান কৃষি সম্প্রসাসরণ অধিদপ্তর তদন্ত করে দেখেন বান্দরবান জেলার ৭৪হাজার ৮ শত ২৫টি কম্বোদিয়ান M-23 জাতের মধ্যে ১৪ হাজার ৩০টি চারা পরিবহনের অনিয়ম ও নিম্ন মানের হওয়াই রোপনে করার পর চারা গুলো মরে যায়। চারা গুলো নিম্ন মানে হওয়াই পরিবহনে সময় ছিলনা তদারকি। এতে হতাশ হয়েছে পরেছে পাহাড়ের চাষিরা।

তবে চারা বিতরণ করার আগে কৃষি গবেষকদের মতে নুন্যতম চারাগুলো ১০ থেকে ১২ দিন হার্ডেনিং করা লাগে। ফলে এই নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করেনি নার্সারি কতৃপক্ষ। হার্ডেনিং না করে এখন পাহাড়ের কাজু চাষ শুরু হতেই না হতে অধিকাংশ চারা মারা যাচ্ছে ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বান্দরবান সদরে ছাংও পাড়া, ডুলু পাড়া, কি বুক পাড়া, এবং রুমা থানচি সহ ৭ টি উপজেলা ৩০ হতে ৭০ শতাংশ মত গাছগুলো মারা গেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাহাড়ি চাষিরা। তাদের ধারণা চারা গুলো কোন পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়া কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে বলে মনে করেন কৃষকরা। আবার অনেকে এই কাজু বাদামে গাছে চারা রোপন ও পরিচর্যা করতে বেশ অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানান কৃষকরা।

কিবুক পাড়া চাষি উবাচিং মারমা বলেন, আমি কৃষি অফিস থেকে ৬০০ টি চারা পেয়েছি। পরে সেই চারা লাগানো জন্য লেবার দিয়ে জঙ্গল পরিষ্কার করেছি। চারা লাগানো শেষে কয়েকদিন মাথায় ২৫০ থেকে ৩০০টি চারা মারা গেছে। আমাদের পাহাড়ি চাষিদের এক প্রকার ঠকানো হয়েছে।

ছাংও পাড়া আরেক চাষী উথোয়াইচিং মারমা বলেন, চারা রোপণের সময় জৈব সার ছাড়া আর কোন রাসায়নিক সার ব্যবহার করেনি। আমার ১৬০টি চারা লাগানো ৮-১০ দিন পর হতে ৭০টি চারা মারা গেছে। চারা লাগানো পিছনে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে, এ খরচে ক্ষতিপূরণ কে দিবে।

ডুলু পাড়া চাষি চিংসাবু মারমা বলেন, কৃষি অধিদপ্তর থেকে ১৭০টি চারা নিয়েছি। পরে অর্থ খরচ করে চারা লাগানো পর কয়েদিন পরে গাছে পাতা ঝরে যায়। পরে শিকড় শুকিয়ে পুরো গাছ মারা গেছে। সব মিলিয়ে ২০-৩০টি চারা মারা গেছে। এতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায় এল. এ. এগ্রো নার্সারি হতে যে সব কাজুবাদামের চারা বিতরণ ও রোপন করা হয়েছে সেখানে স্থান ভেদে এই পর্যন্ত ৩০% হতে ৭০% চারা মারা গেছে। যেখানে কোন পরিক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই নার্সারী হতে যেসব চারা দেওয়া হয়েছে সেই চারা গুলো নিয়ে বিপদে সই কাটচ্ছে নাহ কৃষকদের।

যেখানে উক্ত নার্সারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর সাথে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সবোর্চ্চ ১০% চারা‌ মারা যাবার কথা বলেন। কিন্তু বান্দরবান কৃষি অধিদপ্তরের জরিপে যার মধ্যে থেকে ১৪ হাজার ৩০টি চারা পরিবহনের ও নিম্নমানের থাকায় রোপন করার পর মারা যাই।

এল.এ. এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখার সেলিম অগ্নি সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন রাসায়নিক মিশানো কারনে চারা গুলো মরে গেছে। সেই চারা গুলো মরে গেলে দোষ কি আমার?

তিনি আরো বলেন, সব জায়গায় কৃষি কর্মকর্তারা পন্ডিত। চারা মারা যাওয়ার পিছনে দোষ কৃষি বিভাগ। কেননা আমার প্রজেক্টে চারা গুলো কৃষি বিভাগ নিয়েছে । সেই চারা যদি রাসায়নিক কিংবা এই সেই দেয়ার পর চারা গুলো মরে গেলে সেই দোষ কি আমার। আমি জৈব সার দিয়ে চারা লাগিয়েছি সেইখানে কৃষি বিভাগ রাসায়নিক সার দিয়েছে বলে মারা গেছে। আমার কথা কে বা শুনে।

বান্দরবানের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওমর ফারুক বলেন, আগামি বছরে কৃষকদের জন্য গেপেলিং জন্য চারা প্রোডাকশন করছি। কৃষকের যেসব চারা মারা গেছে সেটিকে কৃষিবিভাগ হতে নতুন করে গেপিংলিং মাধ্যমে চারা গুলো মেকাপ করা হবে।