বান্দরবানের উজি হেডম্যানপাড়া-বাগমারা এলজিইডি সড়কের:কাজ নিয়ে লুকোচুরি


জয় বাংলা নিউজ প্রকাশের সময় : ১৮/০২/২০২২, ১২:০১ AM / ১৩
বান্দরবানের উজি হেডম্যানপাড়া-বাগমারা এলজিইডি সড়কের:কাজ নিয়ে লুকোচুরি

মোঃ শহীদুল ইসলাম রানা, বান্দরবান সংবাদদাতা:
বান্দরবান সদরের বালাঘাটা হতে বাগমারা সড়কের উজি হেডম্যান পাড়া বাগমারা রাস্তার কাজ সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় রাস্তার কাজ করছেন  চার জন শ্রমিক। ঠিকাদারের দেখা নেই। দেখা নেই কাজ তদারকির জন্য কর্তৃপক্ষেরও। কোনোমতে ৩/৪ জন শ্রমিক দিয়ে রাস্তার ইট সরানোর কাজ চলছে। দেখভালের জন্য নির্মাণ কাজ তত্ত্বাবধান কারী বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি’র কেউই কিছু জানেন না।

এমনই তথ্য পাওয়া গেছে সরজমিনে। ওই রাস্তা তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আমানুর রহমান কাজ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না। তিনি জানেন না কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছেন এবং আদৌ কাজ শুরু হয়েছে কিনা এটাও তিনি জানাতে পারেন নি।

এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম না বললে তিনি কাজ সম্পর্কে কিছুই বলবেন না।

এ সময় এ প্রতিবেদক তাঁকে বলেন, সর জমিনে গিয়ে কর্মরত শ্রমিকদের কাছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানান,কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ তারা জানেন না। তবে মো. আজম নামে রাঙামাটির এক ঠিকাদার উক্ত সড়কের কাজটি পেয়েছেন,আজমের শ্রমিক হিসেবেই তাঁরা কাজ করছে। শ্রমিকদের কাছ থেকে  ফোন নম্বর নিয়ে মো. আজমের সাথে কথা বললে তিনিও স্বীকার করেন কাজটি তিনি পেয়েছেন এবং কয়েক দিন আগে (জানুয়ারির শেষ দিকে) কাজ শুরু করেছেন।

বান্দরবান এলজিইডি সূত্রে জানাযায়, প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দে বালাঘাটা-বাগমারা সড়কের উজি হেডম্যান পাড়া হতে বাগমারা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তায় সিলকোট ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। উক্ত কাজটি পেয়েছে রাঙামাটির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমডি রাসেল। তবে কাজটি মেসার্স এমডি রাসেলের পক্ষে মোঃ আজম নামে এক ঠিকাদার পরিচালনা করছেন।

এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও বান্দরবান এলজিইডি’র তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, উপ সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে আমানুর রহমানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম যেমন জানা প্রয়োজন, তেমনি ঠিকাদারের নামও জানা প্রয়োজন। প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, সাধারণত ঠিকাদারের নামেই কাজটি পরিচালিত হয়। আর গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য জানানোও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তিনি বলেন, উপ সহকারী প্রকৌশলী যদি তথ্য দিতে গড়িমসি করেন, তবে তা সঠিক হয়নি।

এদিকে সরেজমনিউজি হেডম্যান পাড়া হতে বাগমারা পর্যন্ত কাজের উজি হেডম্যান পাড়ায় সম্প্রতি গিয়ে দেখাযায় দুই/তিন জন শ্রমিক রাস্তায় ইট সরানোর কাজ করছেন। তারাও জানান, এলজিইডি’র কোনো কর্মকর্তা (প্রকৌশলী) কাজের স্থলে যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা নুচিংপ্রু, বাচিং মং মারমা সহ কয়েকজন জানান, উক্ত সড়কটি হতে আগের ইট তুলে নেয়া হচ্ছে, নিম্ন মানের বালু দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজ টি তদারকি করার জন্য উর্ধতন কাউকে এখনো দেখা যায়নি। ফলে কাজটি নিম্নমানের ও যেনতেন ভাবে হবে বলে তারা সংশয় প্রকাশ করেন।

খবর নিয়ে জানা যায় , উজি হেড ম্যান পাড়া হতে বাগমারা পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরুর পর উপ সহকারী প্রকৌশলী সেখানে যাননি। সাধারণত উপসহকারী প্রকৌশলী কাজটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারিক করার কথা। কিন্তু আমানুর রহমানের সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের  ‘অন্যরক মসম্পর্ক’ এর কারণে গণমাধ্যমের কাছে কাজটির তথ্য দিতে গড়ি মসি করেন তিনি।

এলজিইডি সূত্র মতে, কাজের টেন্ডার পায় রাঙামাটির মেসার্স এমডি রাসেল নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। পরে কাজটি মোঃ আজম নামে এক ঠিকাদার করছে।

কাজের ঠিকাদার মোঃ আজমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি রাঙামাটির মানুষ। টেন্ডারের মাধ্যমে তিনি কাজটি পেয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন শ্রমিকরা কাজ শুরুকরলেও তিনি সরাসরি কাজের স্থলে আসেন নি। কয়েকদিন পর আসতে পারেন।

অভিযোগ উঠেছে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা  এই উপ সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। কাজ তদারকির প্রতি যতটানা দায়িত্বশীল ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতেই বেশি আগ্রহী।

নাম প্রকাশ না করার সর্তে এলজিইডি সূত্র জানায়,উপসহকারী প্রকৌশলী কাজ তেমন বোঝেননা।তবে তাঁর‘খুঁটির জোর’ থাকায় কোনো মতে বছরের পর বছর কাজ করছেন। তবে তাঁর দায়িত্ব পালন নিয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ‘সন্তুষ্ট’নয়।

এর আগেও কয়েকবার এলজিইডি’র উর্ধতন কর্মকর্তারা আমানুর রহমানকে সঠিক ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে সতর্ক করে দেন। অভিযোগ রয়েছে,কাজ সঠিক ভাবে বুঝে নেওয়ার চেয়ে  অনৈতিক সুবিধা আদায়ের দিকে দৃষ্টি বেশি এই উপসহকারী প্রকৌশলী আমানুর রহমানের।